Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

দিঘার পর এবার উত্তরবঙ্গ! শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির গড়বেন মমতা

দিঘার জগন্নাথধামের পর এবার উত্তরবঙ্গের মাটিতেও এক নতুন ধর্মীয় স্থাপত্যের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিঙ সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন শিলিগুড়ির আশেপাশে তৈরি হবে এক মহাকাল মন্দির, যেখানে থাকবে রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি।

দুর্যোগপীড়িত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পরিদর্শন ও ত্রাণ বিলি শেষে ফেরার পথে মমতা জানান, দার্জিলিঙের ম্যালের ঐতিহ্যবাহী মহাকাল মন্দিরের আদলে সমতলে এক নতুন মন্দির গড়ার পরিকল্পনা তাঁর। জেলা প্রশাসনকে তিনি ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "শিলিগুড়ির কাছে এমন এক জায়গা চাই, যেখানে মন্দিরের পাশাপাশি একটি কনভেনশন সেন্টারও করা যাবে। সেখানে তৈরি হবে সবচেয়ে বড় শিবঠাকুর।"

মমতা জানান, এই মন্দির প্রকল্পের জন্য আগে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে যা দিঘার জগন্নাথধামের মতোই। সেই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই কাজ হবে, যাতে সরকারি অর্থব্যয়ে কোনও বিতর্ক না ওঠে। তিনি আরও বলেন, "আমরা দিঘায় যেমন ইস্কনের হাতে পরিচালনা দিয়েছি, এখানেও তেমনই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় করতে চাই।"

দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। পুরীর আদলে তৈরি সেই মন্দিরকে অনেকেই তৃণমূলের 'ধর্মীয় সংযোগের মাস্টারস্ট্রোক' বলছেন। সেখানে জগন্নাথের প্রসাদ সরকারি ব্যবস্থায় রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পাঠানোর পরিকল্পনাতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

এখন শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের ঘোষণায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, উত্তরবঙ্গে হিন্দু ভোট ধরে রাখার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে তৃণমূল। কারণ এই অঞ্চলে বিজেপির প্রভাব এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ১৫ বছরের শাসনের ক্লান্তি কাটিয়ে ভোটে ফিরতে তৃণমূলের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প তাই বড় হাতিয়ার হতে পারে।

শিলিগুড়ির বদলে যাওয়া জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভাবনা
শিলিগুড়ি শহরে অবাঙালি জনসংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে, এবং সেই ভোটব্যাঙ্ক ধরতে ক্ষমতাসীন দলগুলির প্রতিযোগিতা নতুন নয়। সিপিএম আমলে যেমন অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে 'অশোক আগরওয়াল' বলে কটাক্ষ শোনা গিয়েছিল, তেমনি এখন মমতার শিবমন্দির প্রকল্পকেও অনেকে দেখছেন অবাঙালি ভোটের দিকে সদর্থক বার্তা হিসেবে।

অন্যদিকে, বিরোধী বিজেপি এই ঘোষণাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, "সরকারি অর্থে মন্দির বা ধর্মস্থান তৈরি করা যায় না। এটি আসলে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নামে ধর্মীয় স্থাপনা বানানোর চেষ্টা। ভগবানের অবমাননা এটি।"

তিনি আরও দাবি করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আছে বলেই এইসব ঘোষণা আসছে। ২০২৬ সালে তৃণমূলের সরকার পড়ে যাবে, তার পরে আমরা শিবভক্তদের অর্থেই মহাকাল মন্দির গড়ে দেব।"

মমতা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, "সবাইকে নিয়ে করব, আইনের পথেই", এই প্রকল্প কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসার ঘটাতেই তাঁর এই উদ্যোগ। "আইনের মধ্যেই সব করা হবে," বলেছেন তিনি। "আমরা একটি ট্রাস্ট তৈরি করব, যার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। সবাইকে নিয়ে, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়েই আমরা এগোব।"

তবে এবার শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির তৈরি করে একটি ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গঠনের দিকেই যেন এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে এর মধ্যে রাজনীতির রঙ কতটা? তা সময়ই বলবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+