অনুব্রতহীন বীরভূমকে টার্গেট কংগ্রেসেরও, তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর পর স্পষ্ট বার্তা অধীরের
অনুব্রতহীন বীরভূম জেলায় তৃণমূল এই মূহূর্তে প্রবল চাপে। দলের সংগঠনের মাথাই নেই। স্রেফ একটা কমিটি গড়ে দল চালানো হচ্ছে। ফলে তৃণমূলের 'আমরা সবাই রাজা' অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমকে টার্গেট করেছে বিজেপি ও সিপিএম। কংগ্রেসও পিছিয়ে নেই এই লড়াইয়ে।
বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বীরভূমে সভা করেই চলেছেন। তারপর সম্প্রতি অমিত শাহও আসছেন বীরভূমে। আর এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও বীরভূম নিয়ে তৎপরতা দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি বীরভূমে একঝাঁক নেতা-কর্মী তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন। শক্তিশালী হয়েছে বামেরাও। এই অবস্থায় বীরভূম নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন অধীর।

অধীর চৌধুরী বলেন, জনগণের সমর্থনে নয়, মাসেল আর অর্থের জোরেই বীরভূমকে রক্ষা করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এখন তিনি নেই, তাই তৃণমূলের অন্তর্কলহের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। আর তৃণমূলের একাংশ কূলকিনারা না পেয়ে তাঁরা ভিন্নপথ বেছে নিচ্ছেন। যাঁরা এতদিন অনুব্রতর ভয়ে তৃণমূল করতেন, তাঁরা সরে যাচ্ছেন অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে।
অধীর চৌধুরী এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নেন। তিনি বলেন, 'এখন দিদির চরিত্র হচ্ছে কাজ করালে কাজি আর কাজ ফুরোলে পাজি। ফিরহাদ হাকিম একসময় দিদির সঙ্গে ছিলেন, এখনও আছেন। আবার যিনি চোর বলে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তিনিই এখন দিদির দলের সবথেকে বড় প্রবক্তা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলে দিন, পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত পুরসভার প্রতিটা কাজ তাঁর অনুমতি নিয়ে করতে হবে। তা না হলে এনটা ঘটবে কেন? কলকাতা পুরসভরা মেয়রকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কেন মুখ্যমন্ত্রীকে আগে জানাতে হবে। প্রতিবাদের ভাষা আজকে পাল্টে যাচ্ছে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে চলে যাওয়া প্রাক্তন মেয়রকে সেই কারণে টিভিতে দেখে যাচ্ছে মানুষ।
অধীর বলেন, প্রকাশ্যে কোনটা উচিত কোনটা অনুচিত এভাবে মতামত প্রকাশ করা যায় না। না করার মধ্যে দিয়ে যদি তৃণমূল দল কোনো নেতার মান-সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সেই নেতা যদি মান ইজ্জত বোধ থাকে তাহলে কোনো না কোনোভাবে প্রতিবাদ করবে। কিন্তু তাঁরা তা করতে পারছেন না।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, এখানে ভোট হবে না। ভোটের নামে প্রহসন হবে। তারই এখন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে। বহরমপুরে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এক কর্মিসভা থেকে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

অধীর চৌধুরী বলেন, আজ তৃণমূলের প্রতি মোহমুক্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই তাঁরা তৃণমূলের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন তৃণমূলের প্রত্যেকটি নেতা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এই দুর্নীতিগ্রস্ত দলের সঙ্গে মানুষ থাকতে চাইছেন না।
অনুব্রতহীন বীরভূম জেলায় শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেছেন প্রায় ৫০০ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক। বীরভূমের হাঁসন বিধানসভার শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁধখেলায় ভাঙনের মুখে পড়ে তৃণমূল। তৃণমূল ছেড়ে তাঁরা কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন।












Click it and Unblock the Notifications