বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, বিস্তার সঙ্গে কথা শাহের, দুর্গতদের পাশে থাকতে কর্মীদের নির্দেশ অভিষেক ও শমীকের
প্রবল বৃষ্টি, ধস, প্লাবন পরিস্থিতি, রাস্তাঘাট থেকে বাড়ি-ঘর, সেতু ধ্বংস। প্রচুর প্রাণহানি। সবমিলিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ।
প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। চলছে উদ্ধারকাজ। যে রাস্তাগুলি খোলা রয়েছে সেখানেও ব্যাপক যানজট। নদীর জল ঢুকে প্লাবিত বহু এলাকা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষজনের পাশে থাকতে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের নির্দেশ দিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "ভারী বৃষ্টির কারণে দার্জিলিংয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিজেপি কর্মীরাও দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছেন। এই কঠিন সময়ে সকলের পাশে থাকার অঙ্গীকার করি।"
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির কিছু অংশে একটানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক, জোড়বাংলো, সুখিয়াপোখরি এবং ফালাকাটা।
শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, দার্জিলিং জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরলসভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাঁরা এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের উদ্দেশে বলি যে, তাঁরা একা নন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবককে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর, সহায়তা করার এবং সহানুভূতি ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং মা দুর্গার আশীর্বাদে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।"
রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "শনিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড় বিধ্বস্ত। একের পর এক ধস নেমে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, তিস্তার জল উঠে এসেছে জাতীয় সড়ক পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন- কেন্দ্রীয় সরকার সর্বতোভাবে রাজ্যের মানুষের পাশে রয়েছে।
এই কঠিন সময়ে আমরা উত্তরবঙ্গবাসীর সঙ্গে একাত্ম। ভূটানে প্রবল বর্ষণের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। এই দুর্যোগ আমাদের সকলের, এই শোক আমাদের সবার। কিন্তু আমরা হার মানব না। দলের প্রতিটি কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর কাছে আহ্বান- মানুষের পাশে দাঁড়ান, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।"












Click it and Unblock the Notifications