অমিত শাহকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডন যুক্তি মেলে ধরেই
প্রতিটি নির্বাচনের আগে তাঁরা পরিযায়ী পাখির মতো বাংলায় উড়ে আসেন। বাংলার মানুষ যখন ১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) টাকা পাননি, তখন তাঁরা কোনও ত্রাণ দেয়নি। এখন নির্বাচন আসতেই হঠাৎ করে বাংলার কথা মনে পড়ছে। অমিত শাহর রাজ্যে আসাকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যা বলেছেন, তার পাল্টা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সেই সঙ্গে খোঁচা দিয়ে বললেন, বাংলার বায়ুর মান (AQI) দিল্লির চেয়ে অনেক ভালো। এখানে শান্তিতে শ্বাস নিন এবং ভালো থাকুন।

অভিষেক বলেন, আমরা গত পাঁচ বছর ধরে এই নাটক দেখছি। তিনি (অমিত শাহ) বাংলার রাজনীতি কতটা অনুসরণ করেন জানি না, তবে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে আমি তাঁকে অনুরোধ করব আগে নিজের দলের রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ এবং লোকসভা সাংসদ জগন্নাথ সরকার দুই মাস আগে কী বলেছিলেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে। বিজেপি নেতা অনন্ত মহারাজ বলেছিলেন যে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী এবং একজন পাকিস্তানি! এগুলো আমার কথা নয়, খোদ বিজেপির প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত একজন নেতার বক্তব্য।
অভিষেক আরও বলেন, দুই মাস আগে জগন্নাথ সরকার বলেছিলেন যে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যে 'সীমান্ত' বলে কোনও ধারণা থাকবে না। আর আজ অমিত শাহ সীমান্ত সুরক্ষা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করার কথা বলছেন। এটা কে বলেছিলেন? জগন্নাথ সরকার। বিজেপি কি তাঁকে শোকজ করেছে, দল থেকে বহিষ্কার করেছে বা কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে? আমি যতদূর জানি, কারোর বিরুদ্ধেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অমিত শাহর উচিত অন্যকে জ্ঞান দেওয়ার আগে নিজের দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা।
অভিষেকের কথায়, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের রাজধানীতে পৌঁছতে সক্ষম হলো এবং সেখানে বিস্ফোরণ ঘটল। তার জন্য কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী? জম্মু ও কাশ্মীরে চারজন সন্ত্রাসী ঢুকে দিনের আলোয় ২৬ জনকে হত্যা করল। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের দায়িত্বে কে? সীমান্ত কারা নিয়ন্ত্রণ করে? দিল্লি থেকে জম্মু ও কাশ্মীর-সবই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে? স্বাধীনতার পর থেকে সবথেকে অযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন অমিত শাহ। যদি ভারতে অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তবে আপনাদের দল ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় এবং আপনি ছয় বছর ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে আপনারই আগে পদত্যাগ করা উচিত।
অভিষেক দিল্লি যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বলেন, দেখুন কীভাবে আপনারা মতুয়া সম্প্রদায়কে নাগরিকত্বের মিথ্যা আশা দেখিয়ে হেনস্থা করেছেন। বিজেপির প্রতিনিধি এবং নেতারা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে মতুয়াদের বাদ দেওয়া হলে তাই হবে। যারা ক্যামেরায় টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়েছে, তাদের পাশে বসে এরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। এটাই বিজেপির রাজনীতি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন যারা বাংলায় কথা বলে তাদের জেলে পাঠানো উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আপনারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
অমিত শাহকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, আপনারা বাংলার ইতিহাস জানেন না। আজ আপনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "রবীন্দ্রনাথ সান্যাল" বলেছেন। এমনকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থানও আপনার জানা নেই। আপনারা মা দুর্গার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন, স্বামী বিবেকানন্দকে বামপন্থীদের সৃষ্টি বলেন-আর এই ধরণের মন্তব্য করা নেতাদের পাশে বসেই অমিত শাহ "সোনার বাংলা" গড়ার দাবি করেন।
অভিষেক আরও বলেন, পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ মানুষ-প্রত্যেকেই SIR-এর অধীনে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। আজ রামনগরে একজনের মৃত্যু হয়েছে; গতকাল রানিবাঁধে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন আমরা মৃত্যুর খবর শুনছি। কতজন বিজেপি নেতা এই পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে বসেছেন? যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁরা কি অনুপ্রবেশকারী ছিলেন? যদি নাম বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নির্বাচন কমিশন কেন তালিকা প্রকাশ করে প্রমাণ করতে পারছে না যে তাদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি ছিল?
অভিষেক বলেন, আজ অমিত শাহ রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি শব্দও বলেননি। দুদিন আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই যুবক আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন-অসিত সরকার এবং গৌতম বর্মা। একজন তপনের বাসিন্দা, অন্যজন কুমারগঞ্জের। তাঁরা আমাকে জানান যে তাঁরা বিজেপির বুথ সভাপতি এবং তাঁদের লোকসভা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁরা ২০ বছর ধরে মুম্বইয়ে কাজ করছিলেন কিন্তু মহারাষ্ট্র পুলিশ তাঁদের জেলে ভরেছিল। তাঁদের মধ্যে একজন স্ত্রীকে ফোন করে সুকান্ত মজুমদারের সাহায্য চাইতে বলেছিলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তাঁদের একমাত্র অপরাধ ছিল যে তাঁরা বাংলায় কথা বলতেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এমন হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে। অমিত শাহ কি এ বিষয়ে কথা বলবেন? কেন সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে এই প্রশ্নগুলো করে না, কেন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "রবীন্দ্রনাথ সান্যাল" বলেন, কেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে "বঙ্কিম দা" বলেন, কেন তিনি ঠাকুরের জন্মস্থান জানেন না, কেন পঞ্চানন বর্মাকে "পঞ্চানন বর্মন" বলেন?
অভিষেক আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ সীমান্তের মাত্র ২-৫ কিমি পর্যন্ত ছিল। তারা একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এটি ৫০-৮০ কিমি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তারপরেও কেন সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে? আর কেনই বা আপনি আইবি (IB) প্রধানের মেয়াদ বাড়ালেন? এই মেয়াদের বাড়ানোর আড়ালে কি আপনারা কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন?












Click it and Unblock the Notifications