ছানিশ্রী প্রকল্প চালুর কথা ভাবছেন অভিষেক, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম বিরোধীশূন্য করার ডাক
মেদিনীপুরের রণ সংকল্প সভাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির করলেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় মৃত তিন ব্যক্তিকে। সর্বতোভাবে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দিলেন।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এদিন একযোগে নিশানা করলেন সিপিআইএম ও বিজেপিকে। ডাক দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিরোধীশূন্য করার।

অভিষেক বলেন, আমি আপনাদের সামনে তিনজনকে হাজির করব। এই জীবিত মানুষগুলোকেই ওরা মৃত বলে চালিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবাক হয়ে ভাবছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে জনসভায় এই মানুষগুলোকে খুঁজে আনছে। আমি আরও একজনকে আনতে পারতাম, কিন্তু তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং হাসপাতালে ভর্তি। এই জ্ঞানেশ কুমার, মোদী আর শাহের নির্দেশে জীবন্ত মানুষকে মৃত বলে দাগিয়ে দিচ্ছে যাতে তাঁরা ভোট দিতে না পারেন। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কারোরই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়।
এদিন মঞ্চে যাঁদের দেখা গেল তাঁরা হলেন বিজয় মালি, মঙ্গলি মান্ডি এবং মঙ্গলি মান্ডি। অভিষেক বলেন, আপনারা এঁদের দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু বিজেপি আর জ্ঞানেশ কুমার এদের দেখতে পাচ্ছে না। আমার সাংবাদিক বন্ধুদের বলছি, আপনারা আমার ছবি বা ভিড়ের ছবি না দেখিয়ে এই তিনজনকে দেখান। জ্ঞানেশ কুমারের চোখের ছানির অস্ত্রোপচারের জন্য জন্য এবার আমাদের 'ছানিশ্রী' নামে একটা নতুন প্রকল্প শুরু করতে হবে। মানুষ কি ভোট দেবে না? যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা কি মৃতদের বাড়ি গিয়ে দেখেছে? কাউকে বাড়ি দিয়েছে, একটা টিউবওয়েল বসিয়েছে, কিংবা কোনও রাস্তা বা হাসপাতাল তৈরি করেছে? ওরা শুধু বিভাজনের রাজনীতি করেছে। মেদিনীপুরের মানুষকে এর জবাব দিতে হবে।
অভিষেক এই তিনজনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা ৭ নম্বর ফর্ম পূরণ করবেন, কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯- এই তারিখগুলো মনে রাখবেন। প্রথমত, শুনানি কেন্দ্রগুলোর সামনে আমাদের ক্যাম্প থাকবে যেখানে আমাদের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির কোনও নেতা, সে যত বড় মাপেরই হোক না কেন, যদি অশান্তি করার চেষ্টা করে, তাদের হালকা করে ডিজে শুনিয়ে দিন এবং বাড়ি ঘেরাও করবেন। আমাকে ফোন করবেন, আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াব। ওরা মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আগে মানুষ তাদের সরকার বেছে নিত, আর এখন ওরা ভোটার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অভিষেকের কথায়, ২০১১ সাল থেকে এই জেলার মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি তাঁদের সেলাম জানাই। এবার আমাদের লক্ষ্য হবে ১৫-০, অর্থাৎ সবকটি আসনেই তৃণমূলকে জয়ী করতে হবে।আগামী দিনে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানো উচিত। যদি বিজেপির ক্ষমতা থাকে, তবে তারা আগে নিজেদের দল থেকে গুন্ডাদের বের করে দেখাক। এখানে বিজেপির দুজন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁরা দুজনেই তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা আপনাদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য দরজা বন্ধ রেখেছি। ৪৫ বা ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের কাছে শীতল কপাটের ইতিহাস অজানা নয়। কীভাবে সন্ত্রাস চালানো হতো, তা সবাই জানে। সিপিএমের সেই হার্মাদরাই আজ বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। মনে রাখবেন, ওরা কখনই তৃণমূলের সম্পদ হতে পারে না।
অভিষেক আরও বলেন, হিরণ অজিত মাইতির সঙ্গে আমার অফিসে এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাঁদের দলে নিইনি। তবে খড়গপুরকে তৃণমূলের লিড দিতেই হবে এবং আমি এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। এতদিন তো আপনারা বিজেপিকে দায়িত্ব দিয়েছেন, বিনিময়ে কী পেলেন? উল্টে ওরা আমাদের হকের পাওনা আটকে দিল। আমাকে বলুন, আপনাদের ভোটে জিতে কেউ যদি দিল্লি গিয়ে বলে-যারা তাকে পাঠাল তাদেরই শিক্ষা দিতে হবে, তাহলে ভোটার হিসেবে আপনারাই কি তাকে উচিত শিক্ষা দেবেন না?
শুভেন্দু অধিকারীর নামোল্লেখ না করে অভিষেক বলেন, ২০২০ সালে একজন গদ্দার সিবিআই-এর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতো চাটতে চাটতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির মডেলটা আসলে কী? নীচে রয়েছে সিপিআই(এম)-এর হার্মাদরা আর উপরে বসে আছে বিজেপির ওই গদ্দার।
অভিষেক দলীয় কর্মী, সমর্থকদের বলেন, যে সব এলাকায় বিজেপির বিধায়ক আছেন, সেখানে তাঁদের প্রশ্ন করুন- কেন্দ্রের মোদী সরকার গত ১২ বছরে ঘাটাল বা খড়গপুরের জন্য কত টাকা দিয়েছে? ঘাটালের সাংসদ দেব সংসদে বারবার এই মাস্টার প্ল্যানের দাবি তুলেছেন, চিঠি লিখেছেন। গত বছর আমি কথা দিয়েছিলাম যে রাজ্য সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করবে। সেই কথা রেখে আমাদের সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং ২০২৫ সাল থেকেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হবে। এই অসাধ্য সাধন যদি কেউ করতে পারে, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই করবে। মোদী সরকার কিছুই করেনি, আর তাদের ওপর আমাদের কোনও ভরসাও নেই। আপনাদের ১৫-০ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আর ঝাড়গ্রাম হবে ৪-০। যেখানে দরকার আমাকে ডাকবেন, আমি আপনাদের পাশে থাকব। এক মাসের মধ্যে আবার আসব, কিন্তু বিজেপিকে শূন্য করার দায়িত্ব আপনাদের।












Click it and Unblock the Notifications