সুখেনের মৃত্যুর তদন্তে ডেডলাইন! 'মহারাষ্ট্র না পারলে কেস ট্রান্সফার করুক', স্পষ্ট জানালেন অভিষেক, আর কী বললেন?

পুরুলিয়ার সুখেন, কাজের সূত্রে পুণেতে থাকতেন তিনি। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর মৃত দেহ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। নিহত ওই যুবকের বাড়ি পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে। অভিযোগ যে, বাংলায় কথা বলাকে কেন্দ্র করেই নাকি তাঁর উপর এরকম নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আজ বাড়িতে ফিরেছে তাঁর মরদেহ। শোকস্তব্ধ পরিবারকে দেখার জন্য আজ পুরুলিয়ায় পৌঁছন অভিষেক ব্যানার্জী। ঘটনার প্রথম থেকেই থেকেই সরব রাজ্যের শাসকদল। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

সুখেনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, "মৃত্যু নিয়ে কখনও রাজনীতি করি না। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, সমস্তটাই তদন্তে স্পষ্ট হোক।" সেই সঙ্গে গত কয়েক মাসে বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগের কথা মনে করানো হলে তিনি যোগ করেন, "এই ঘটনার সঙ্গে তা আমি জুড়তে চাই না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করুক।"

মহারাষ্ট্র সরকারকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে যদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে দ্রুত চার্জ গঠন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ট্রায়াল শেষ করার দায় মহারাষ্ট্র পুলিশের। তাঁর কথায়, "তারা যদি না পারে তাহলে কেস ট্রান্সফার করুক। আমরা ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখিয়ে দেব।"

ইতিমধ্যেই একজন গ্রেপ্তার হয়েছে শুনেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও অভিযুক্ত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, "দোষীদের যেন জেল থেকে বেল না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।"

এদিন পুণেতে পরিবারের হয়রানির কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলে, "কখনও ময়নাতদন্ত, কখনও আবার মর্গ, কখনও থানায় যেতে বলা হয়েছে পরিবারকে, পাশে দাঁড়ানোর মতো তখন কেউ ছিল না।" প্রয়োজন পড়লে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন অভিষেক।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন যে, "এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। যতদূর যাওয়ার দরকার, ততদূর যাব।" কলকাতায় ফেরার পর বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। সুখেনের দুই ভাই মহারাষ্ট্রে আর ফিরতে চান না বলে জানালে, তাঁদের জন্য রাজ্যে চাকরি অথবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে দল এবং সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। আইনি লড়াইয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের পুণেতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন সুখেন মাহাতো। গতকাল রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃত দেহ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি সুখেনই ছিলেন। তাঁর মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও উঠেছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি লেখেন, "এই বর্বরোচিত ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আমি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" সেইসঙ্গে সুখেনের পরিবারের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন যে, এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+