তৃণমূল নেতা দুর্ব্যবহার করলে...! পুরুলিয়া থেকে বড় বার্তা দিলেন অভিষেক
যদি স্থানীয় কোনও তৃণমূল নেতা খারাপ আচরণ করেন, তবে এক ডাকে অভিষেক-এ আমাকে সরাসরি জানান। ওই দু-একজন লোকের জন্য দলের ওপর আস্থা হারাবেন না। পুরুলিয়ার কাশীপুরে রণসংকল্প সভা থেকে এই বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, প্রার্থী যেই হোক না কেন মনে রাখবেন পুরুলিয়ার উন্নয়নের জন্য আপনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভোট দিচ্ছেন। পুরুলিয়াকে এবার বিরোধীশূন্য করারও ডাক দেন অভিষেক।

অভিষেক বলেন, ট্রাফিক সিগন্যালে আপনি তিন ধরনের আলো দেখতে পান। লাল, কমলা বা গেরুয়া এবং সবুজ। লাল মানে থামা। কমলা বা গেরুয়া মানে ধীর গতি। সবুজ মানে সামনে এগিয়ে চলা। ৩৪ বছর ধরে এই জেলা লাল ছিল। তারপর এটি সবুজ হলো এবং উন্নয়ন ঘটল। বিজেপির কারণে উন্নয়ন আবারও থমকে গিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের তাদের বিদায় করতে হবে। এটি শুধু তৃণমূলকে জেতানোর নির্বাচন নয়। সিপিআই(এম)-এর সেই হার্মাদরা এখন জার্সি বদলে বিজেপিতে গিয়েছে। এটি আসলে নতুন বোতলে পুরনো মদ।
অভিষেকের কথায়, পুরুলিয়ায় 'ডাবল ইঞ্জিন' রয়েছে। সাংসদ বিজেপির। তাদের ৬ জন বিধায়ক আছেন। তাঁরা দিল্লি থেকে কত টাকা এনেছেন? তাঁরা কি একটি বাড়তি ট্রেন লাইন তৈরি করতে পেরেছেন? তারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু একটি বাড়তি ট্রেন লাইনও দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। হাওড়া-চক্রধরপুর সকাল ৬টার মধ্যে পুরুলিয়া পৌঁছানোর কথা, কিন্তু পৌঁছায় বেলা ১১টায়। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে বিকেল ৩টে ৪০ মিনিটে ছাড়ে। সেই ট্রেনটি রাত ৩টের মতো দেরিতে পৌঁছায়। রূপসী বাংলা পুরুলিয়া থেকে ছাড়ে বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে। এটি রাত ১০টার মধ্যে হাওড়া পৌঁছানোর কথা। এটি হাওড়ায় ঢোকে না। যাত্রীরা সাঁতরাগাছিতে নেমে যান, কারণ গত চার বছর ধরে তারা বলছে যে, লাইনের কাজ চলছে। এটাই কি ডবল ইঞ্জিন সরকারের নমুনা?
অভিষেক আরও বলেন, বিজেপি এখানে জিতেছে, তা সত্ত্বেও পুরুলিয়ার জন্য কোনও কাজ করেনি। ওরা আসলে আপনাদের রিমোট কন্ট্রোলে চালাতে চায়। আগামী দিনে গণতান্ত্রিকভাবে এর জবাব দিন। SIR-এর মাধ্যমে ওরা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। দশ বছর আগে নোটবন্দির নামেও ওরা আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। বলেছিল কালো টাকা ধ্বংস হবে, কিন্তু কিছুই হয়নি। ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ এক পয়সাও পায়নি। জিএসটি-এর মাধ্যমে ওরা বাংলা থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল আটকে রেখেছে। এর মানে হলো- মানবাজার বা বাঘমুণ্ডির মতো প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্র কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ৬৮০ কোটি টাকা করে পায়।












Click it and Unblock the Notifications