আই প্যাক তদন্তে সংঘাতের নতুন অধ্যায়, কলকাতা হাই কোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টে ইডি

আই প্যাক মামলায় তদন্তে বাধা পড়েছে, এই অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হস্তক্ষেপে' নাকি তাদের তদন্তে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটেছে।

ইডির দাবি, আই প্যাকের দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জায়গায় তল্লাশির সময়ে রাজ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নাকি কর্তৃপক্ষের সামনেই সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ, বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগই পায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা।

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া আবেদনে ইডির বক্তব্য "স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে।" পাশাপাশি, গোটা ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জিও রাখে তারা।

ইডির পদক্ষেপ আঁচ করেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগে থেকেই সুপ্রিম কোর্টে কেভিয়েট দাখিল করে। উদ্দেশ্য তাদের বক্তব্য না শুনে যাতে আদালত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেয়। ফলে কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েনের আইনগত লড়াই আরও তীব্র আকার নিতে শুরু করেছে।

হাই কোর্টে স্থগিত শুনানি, তাতেই সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখ
গত শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর চেয়ে আর্জি জানায় ইডি। অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী নিজে ইডির তল্লাশি অভিযানে 'হস্তক্ষেপ' করেন। কিন্তু একক বেঞ্চের পর ডিভিশন বেঞ্চও শুনানি স্থগিত রাখায় ইডি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে, তৃণমূল ও আই প্যাক দু'জনেই পাল্টা আর্জি দাখিল করে জানান ইডি যে নথি চেয়েছিল তা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক প্রচারের কৌশল, যা মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে না। অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

চোরাগলি দিয়ে কোটি টাকার লেনদেন? অভিযোগে জ্বালানি যোগ করছে দিল্লি কলকাতা টানাপোড়েন
ইডির দাবি, কয়লা পাচার মামলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওলা মাধ্যমে আই প্যাকের কাছে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের গোয়া নির্বাচনে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের জন্য সেই অর্থ ব্যয় হয়েছে এমনটাই অভিযোগ।

এদিকে আই প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের পরিবারের অভিযোগ বাড়ি ও অফিস থেকে নথি 'চুরি' করেছে ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাল্টা ইডি "তল্লাশি আইনি প্রক্রিয়াতেই হয়েছে ও প্রমাণ সংগ্রহই ছিল উদ্দেশ্য।"

তদন্তের পথে নতুন মোড় ইডি বনাম কলকাতা পুলিশ
তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী ইডি ও সিআরপিএফ কর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশের দাবি সঠিক নোটিস বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন ফৌজদারি ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

তবে তদন্তের ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্টের হাতে, সব মিলিয়ে আই প্যাককে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দোরগোড়ায়। স্বাধীন তদন্তের দাবি বনাম গোপন রাজনৈতিক তথ্য সুরক্ষার যুক্তি এই দুইয়ের সংঘাতে নজর এখন সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় তাতে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+