রোমা ঝাওয়ার অপহরণ-কাণ্ড: অরবিন্দকে খুনের ঘটনায় গুঞ্জন সহ চারজনকে যাবজ্জীবন দিল আদালত
রোমা ঝাওয়ার অপহরণ-কান্ডে টাকার বকরা নিয়ে সঙ্গী অরবিন্দ প্রসাদকে খুনের দায়ে গুঞ্জন ঘোষকে অপরাধী সাব্যস্ত করল আলিপুর আদালত। ১২ নম্বর এডিজে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন গুঞ্জন সহ চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ধারা
রোমা ঝাওয়ার অপহরণ-কান্ডে টাকার বকরা নিয়ে সঙ্গী অরবিন্দ প্রসাদকে খুনের দায়ে গুঞ্জন ঘোষকে অপরাধী সাব্যস্ত করল আলিপুর আদালত। ১২ নম্বর এডিজে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন গুঞ্জন সহ চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ধারা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়।

আজ সোমবার সেই মামলাতে সাজা ঘোষণা করল আদালত। মামলাতে মূল অভিযুক্ত গুঞ্জন সহ চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। ইতিমধ্যে আরও দুটি কেসে যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত হয়েছে মূল অভিযুক্ত গুঞ্জন। এবার অরবিন্দ প্রসাদকে খুনের মামলাতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ শোনাল আদালত।
আজ সোমবার আলিপুর আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানে বিচারক গুঞ্জন সহ চার দোষী সাব্যস্তকে আজীবন কারাদন্ডের নির্দেশ শোনায়। পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও যেহেতু মামলা হয়েছে সেই মামলাতে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
গুঞ্জন ছাড়াও দীনেশ যাদব, মুকেশ সিং ও মুন্না সিং এই ঘটনায় অন্য তিন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে মুক্তিপণ আদায়ের নামে সল্টলেক থেকে ব্যবসায়ী কন্যা রোমা ঝাওয়ারকে অপহরণ করা হয়। পরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলে ওই তরুণীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই টাকারই ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে পরবর্তী সময় খুন হয়ে যায় অরবিন্দ প্রসাদ নামে এক যুবক।
তাঁকে গুলি করে খুন করে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয় পূর্বতন পরমা থানার অধীনে বাইপাস সংলগ্ন সায়েন্স সিটির কাছে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত হয় গুঞ্জন ঘোষ সহ আরও তিনজনের নাম। গত কয়েকদিন আগে এই মামলাতে চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। অবশেষে সেই মামলাতে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করল আলিপুর আদালত। তবে এই প্রসঙ্গে সরকারি আইনজীবী আগে জানিয়েছেন, অরবিন্দ প্রসাদ ছিল গুঞ্জনেরই শাগরেদ।
এদিকে, ২০০৫ সালে অরবিন্দ খুন হওয়ার পর পুলিস তদন্ত শেষ করে এই মামলায় আলিপুর কোর্টে চার্জশিট পেশ করে। সেখানে অভিযুক্ত গুঞ্জন সহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বিচারের জন্য যায় আলিপুরের দ্বাদশ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা কোর্টে। সেখানেই বর্তমানে বিচারক শেখ কামাল হোসেনের এজলাসে চলে এই মামলার শুনানি।
সরকারি আইনজীবী জানান, এই মামলায় ছিলেন মোট ২৮ জন সাক্ষী। সর্বশেষ সাক্ষী ছিলেন ওই তদন্তকারী অফিসার। সবদিক খতিয়ে দেখার পরেই এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications