বেঙ্গালুরু ওপেনে নজিরবিহীন প্রতিবাদ, বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকার অভিযোগ
বেঙ্গালুরু ওপেনের আসর বসেছিল কর্নাটক স্টেট লন টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সেখানে উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকার অভিযোগে প্রতিবাদ জানালেন সুনীল জৈন।
বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি হয়ে গেল জনপ্রিয় টেনিস টুর্নামেন্ট বেঙ্গালুরু ওপেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রতিযোগিতার শেষ দিন। সেদিনই অভিনব প্রতিবাদের সাক্ষী থাকলেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। বিশেষভাবে সক্ষমদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। এই অভিযোগে হুইলচেয়ারে বসেই প্রতিবাদ জানালেন সুনীল জৈন। স্টেডিয়ামের গেটের সামনেই।

সুনীল জৈনকে চলাফেরা করতে হয় হুইলচেয়ারে। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ইন্ডিয়ান হুইলচেয়ার টেনিস ট্যুরের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাস্টি এবং চিফ এনেবলার। এর আগেও কর্নাটক স্টেট লন টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে গিয়ে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সেখানে প্রয়োজনীয় র্যাম্পের বন্দোবস্ত নেই। আগে যখন সুনীল জৈন এই স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে গ্যালারিতে পৌঁছনোর জন্য হুইলচেয়ারও রাখা ছিল না। সেবার সুনীল অনিচ্ছা সত্ত্বেও কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেন। কিন্তু এভাবে পরনির্ভরশীল যাতে না হয় সে কারণে দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেএসএলটিএর যুগ্ম সচিব সুনীল যজমানের।
কেএসএলটিএ-র তরফে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের যাতে অসুবিধায় না পড়তে হয় সেজন্য স্টেডিয়ামে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। যদিও তা কথার কথা হয়েই থেকে গিয়েছে। সুনীল জৈন নিজে এ ব্যাপারে নানা সময়ে তথ্যলাভের চেষ্টা করেছেন। যদিও টেনিস সংস্থার তরফে কোনও উত্তর মেলেনি বলেই অভিযোগ। গত নভেম্বরে স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলছিল। তখন তিনি কেএসএলটিএ সচিব মহেশ্বর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেন। গ্যালারিতে যাতে কারও সাহায্য না নিয়েই হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী বিশেষভাবে সক্ষমরা পৌঁছতে পারেন তার বন্দোবস্ত করার অনুরোধ জানান। মহেশ্বরও তখন মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এরপর আর কোনও তথ্য পাননি সুনীল জৈন, বারবার চেষ্টা করেও।
বেঙ্গালুরু ওপেনের আগে সুনীল ই-মেল পাঠান। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট বুকিং লিঙ্ক পাঠানো হলেও হুইলচেয়ার নিয়ে কীভাবে গ্যালারিতে পৌঁছনো সম্ভব সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। কেএসএলটিএ-র তরফেও সদুত্তর মেলেনি। তবুও তিনি আশা করেছিলেন, এতদিনে হয়তো সব ব্যবস্থা হয়েছে। প্রতিযোগিতার শেষ দিন তিনি স্টেডিয়ামে যান। গাড়ি পার্কিং কোথায় করতে হবে সে ব্যাপারে কোনও সাইনবোর্ড ছিল না বলে অভিযোগ। গেট খুঁজে পেতে আধ ঘণ্টা লাগে। টিকিট এজেন্সির লোকজন জানাতে পারেননি কীভাবে হুইলচেয়ার নিয়ে তিনি গ্যালারিতে যেতে পারবেন। তাঁরা কোনওরকমে ধরাধরি করে সুনীল জৈনকে গ্যালারিতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। যদিও সুনীল নিজেই হুইলচেয়ার নিয়ে পৌঁছনোর সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। কারও উপর পরনির্ভরশীল হওয়া তাঁর নাপসন্দ।
কেএসএলটিএ-র লোকজনরা এসেও সুনীল জৈনকে গ্যালারিতে তাঁর সিটে পৌঁছে দেওয়ার সহযোগিতার কথা বলেন। যদিও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিকেল পৌনে ৬টা থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট অবধি গেটের সামনেই সুনীল প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এত বড় টুর্নামেন্টেও উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে কর্তারা উদাসীন, সে প্রশ্নও তোলেন। কেএসএলটিএ-র তরফে লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করে উপযুক্ত পরিকাঠানো সুনিশ্চিত করার কথাও বলেন। এখনও এ ব্যাপারে কেএসএলটিএ মুখে কুলুপ এঁটেই রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications