সানিয়া মির্জার টেনিস কেরিয়ারে যবনিকা পতন, দুবাইয়ের ইভেন্টে প্রথম রাউন্ডেই শোচনীয় পরাজয়

সানিয়া মির্জার পেশাদার টেনিসে শেষ ম্য়াচের সাক্ষী থাকল দুবাই। রাশিয়ার প্রতিপক্ষের কাছে স্ট্রেট সেটে হার ডাবলসের প্রথম রাউন্ডেই।

সানিয়া মির্জাকে পেশাদার টেনিসে আর কোর্টে দেখা যাবে না। আজই দুবাইয়ে ডব্লুটিএ ইভেন্টের ডাবলসে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিল সানিয়া মির্জা-ম্যাডিসন কিস জুটি। কেরিয়ারের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে মিক্সড ডাবলসে তবু ফাইনাল অবধি গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ইভেন্টে বিদায় যে এতটাই তাড়াতাড়ি আসবে তা সানিয়াও প্রত্যাশা করেননি।

সানিয়ার বিদায়

সানিয়ার বিদায়

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেই আজ শেষবার কোর্টে নামেন সানিয়া। আবু ধাবি ওপেনে বিদায় নিয়েছিলেন রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে। দুবাই টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম রাউন্ডেই শোচনীয় পরাজয়। রোহন বোপান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধে সানিয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মিক্সড ডাবলস ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর তাঁর ভক্তরা শেষ দুটি ইভেন্টে তাঁর হাতে ট্রফি দেখতে চেয়েছিলেন। যদিও তা অধরাই থেকে গেল।

দুবাইয়ের ইভেন্টে প্রথম রাউন্ডেই হার

সিঙ্গলসে বিশ্বের ২৩ নম্বরে থাকা ম্যাডিসন কিস (Madison Keys)-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে আজ রাশিয়ার ভেরোনিকা কুডারমেটোভা ও লিউডমিলা সামসোনোভার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন সানিয়া। রাশিয়ান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরাজয় ৪-৬, ০-৬ সেটে। প্রত্যাশিতভাবে লড়াই-ই চালাতে পারলেন না সানিয়ারা। সানিয়ার কেরিয়ার শেষ হলো ৪৩টি ডাবলস ও একটি সিঙ্গলস খেতাব জয়ের মধ্যে দিয়েই। ২০০৫ সালে সানিয়া যখন খেলা শুরু করেন তখন থেকেই তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী ছিলেন অনেকে। ভারতের টেনিসে জোয়ার এনে দেন গ্ল্যাম-গার্ল সানিয়া। ২০০৭ সালের অগাস্টে তিনি সিঙ্গলস কেরিয়ারের ২৭ নম্বরে পৌঁছেছিলেন। ২০০৫ সালে ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ড অবধি পৌঁছেছিলেন। গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গলসে সেটিই সানিয়ার সেরা সাফল্য।

কেরিয়ার নিয়ে

চোট ও অস্ত্রোপচারের কারণে ২০১২ সালেই সানিয়া সিঙ্গলস খেলা ছেড়ে দেন। গ্র্যান্ড স্ল্যামে কখনও চতুর্থ রাউন্ডের বাধা টপকাতে না পেরেও বিশ্বের ২৭ নম্বর প্লেয়ার হওয়া কম কথা নয়। সানিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি কখনও হারের ভয় করতেন না। সেটাই তাঁকে কোর্টে আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। সানিয়া আরও বলেছেন, টেনিস সব সময়ই আমার জীবনে অনেকটা বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেটাই আমার পুরো জীবন নয়। সানিয়া জানান, তিনি বিশ্বাস করতেন টেনিসে কোনও ম্যাচ হারতেই হতে পারে। তবে তারপরেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এবার নতুন চ্যালেঞ্জ

এবার নতুন চ্যালেঞ্জ

সানিয়া মনে করেন, কেবল হারের ভয়েই অনেকে রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করেন। কিন্তু একজন সফল অ্যাথলিট হওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ চলার পথে এই মানসিকতা একেবারেই কাজ দেয় না। সানিয়া কেরিয়ারে ৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব জিতেছেন, তিনটি ডাবলস ও তিনটি মিক্সড ডাবলসে। নিজে সিঙ্গলসে প্রথম ৩০-এ আসতে পেরেছিলেন, এতে তৃপ্ত সানিয়া। ডাবলস খেলে যে সম্মান আদায় করেছেন তাতেই সন্তুষ্ট। তিনটি অপারেশনের ধাক্কা সামলে ডাবলস খেলার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সানিয়া বললেন, লোকে কে কী বললেন যায় আসে না। ডাবলসে আমি এক নম্বর ছিলাম, তাতে সাফল্যও এসেছে। টেনিস জগতে যে সম্মান তিনি পেয়েছেন তাতেই খুশি সানিয়া। পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানানোর পর এবার সানিয়া মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের মেন্টরের ভূমিকা পালন করবেন। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি উজ্জীবিত করবেন স্মৃতি মান্ধানাদের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+