সানিয়া মির্জার বিদায় সংবর্ধনায় তারকার মেলা, যেখানে শুরু সেখানেই কেরিয়ার শেষ প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে
সানিয়া মির্জার বিদায় সংবর্ধনা ঘিরে হায়দরাবাদে তারকার মেলা। যেখানে কেরিয়ারের শুরু, প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে সেখানেই খেলোয়াড় হিসেবে টেনিস কোর্টকে বিদায়।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই ছিল তাঁর কেরিয়ারের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। দুবাইয়ে ডব্লুটিএ ইভেন্টে তিনি বিদায় জানিয়েছেন পেশাদার টেনিসকে। তবে সানিয়াকে জমকালো বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল তাঁর নিজের শহর হায়দরাবাদ। দুই দশক আগে যেখানে তাঁর টেনিস কেরিয়ারের শুরু। লাল বাহাদুর স্টেডিয়ামে তারকাখচিত কয়েকটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেই আবেগপ্রবণ সানিয়া শেষবারের জন্য কোর্ট ছাড়লেন।

সানিয়ার বিদায় সংবর্ধনা
সানিয়ার জন্য প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে হাজির ছিলেন তাঁর বিভিন্ন সময়ের পার্টনাররা। ছিলেন রোহন বোপান্না, ইভান ডোডিগ, কারা ব্ল্যাক, বেথানি মাটেক-স্যান্ডস, মারিয়ন বার্তোলি। এমনকী বেথানির সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং সানিয়া-ডোডিগ জুটির বিরুদ্ধে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেন। এই ম্যাচগুলি খেলেই এলবি স্টেডিয়াম টেনিস কমপ্লেক্সের সেন্টার কোর্ট থেকে পাকাপাকিভাবে তিনি জুতোজোড়া তুলে রাখলেন।

আবেগাপ্লুত ভারতীয় টেনিস-সুন্দরী
সানিয়ার বিদায়ী সংবর্ধনার জন্য ফুল, বেলুন, ব্যানারে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল গোটা কমপ্লেক্স। উঠতি টেনিস খেলোয়াড়রা তাঁকে স্বাগত জানান। গ্যালারিতেও ছিলেন প্রচুর দর্শক। সানিয়া বলেন, ২০০২ সালে ন্যাশনাল গেমসে পদক জিতেছিলাম। ২০০৪ সালে প্রথমবার ডব্লুটিএ ডাবলস খেতাব জিতি। দেশের হয়ে ২০ বছর খেলতে পারা আমার কাছে বিরাট গৌরবের। সব ক্রীড়াবিদই স্বপ্ন দেখেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে। সেটা করতে পেরেছি। বিদায়ী ভাষণ দিতে গিয়ে সমর্থকরা তাঁর নামে জয়ধ্বনি দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সানিয়া। তিনি বলেন, আনন্দাশ্রু নেমেছে। এর চেয়ে সেরা বিদায় মুহূর্ত হতে পারে না। দেখা যায়, সানিয়ার কয়েকজন গুণমুগ্ধকেও অঝোরে কাঁদতে।

ভবিষ্যতের সানিয়া তুলে আনতে চান
বাবা-মা যেভাবে তাঁকে টেনিস কেরিয়ার গড়ার পথে আস্থা রেখে উৎসাহিত করেছেন তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান সানিয়া। তিনি চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, অবশ্যই টেনিসকে মিস করব। তবে তেলেঙ্গানা সরকার ও তেলেঙ্গানা স্পোর্টস অথরিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভবিষ্যতের সানিয়াদের তুলে আনার কাজে আমি সামিল হব। আমাদের আরও অনেক সানিয়ার দরকার, সেই লক্ষ্যেঅ কাজ করতে চাই। এদিন কয়েকটি প্রদর্শনী ম্যাচ মজাদার হলেও মিক্সড ডাবলস ম্যাচটিতে সানিয়া সিরিয়াসই ছিলেন। তাঁর চেনা ছন্দও দেখা যায়। বোপান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি খেলেন ডোডিগ-বেথানি জুটির বিরুদ্ধে।

রিজিজুর প্রশংসা
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, আমি সানিয়ার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই এসেছি। সানিয়া যে শুধু টেনিসেরই নন, তাঁর একাধিক কীর্তি ও সাফল্যের মাধ্যমে গোটা দেশেরই অনুপ্রেরণা জোগানোর একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা বোঝা যাচ্ছে গ্যালারির দর্শকদের দেখেও। উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কে টি রামা রাও, ক্রীড়ামন্ত্রী ভি শ্রীনিবাস গৌড়। তাঁরা সানিয়া, তাঁর পরিবারের সদস্য ও টেনিস তারকাদের হাতে স্মারক তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন হায়দরাবাদের সিটি পুলিশ কমিশনার সি ভি আনন্দ।

তারকাখচিত নৈশভোজ
সানিয়ার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তাঁর বাবা ইমরান মির্জা ও মা নাসিমা, বোন আনম, আনমের স্বামী আসাদউদ্দিন। আসাদের বাবা তথা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনও হাজির ছিলেন। মায়ের সঙ্গে গোটা অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন সানিয়া-পুত্র ইজহান। পরে শহরের হোটেলে জমকালো নৈশভোজেও যোগ দেন তাঁরা। সেখানে হাজির ছিলেন বিভিন্ন জগতের সেলেবরাও।












Click it and Unblock the Notifications