TMC vs TMC: টাকার বিনিময়ে 'অযোগ্য'দের পদ দলে! ব্লক কার্যালয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি তালা স্থানীয় তৃণমূলকর্মীদের
দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি 'টাকার বিনিময়ে' 'অযোগ্য' ব্যক্তিদের অঞ্চল সভাপতি নিয়োগ করেছেন অভিযোগ তুলে স্থানীয় স্কুল মোড়ে সিমলাপাল ব্লক কার্যালয়ে ভাঙ্গচুরের পাশাপাশি তালা দিলেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। ভোটের সময় নিষ্ক্রিয় থাক
দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি 'টাকার বিনিময়ে' 'অযোগ্য' ব্যক্তিদের অঞ্চল সভাপতি নিয়োগ করেছেন অভিযোগ তুলে স্থানীয় স্কুল মোড়ে সিমলাপাল ব্লক কার্যালয়ে ভাঙ্গচুরের পাশাপাশি তালা দিলেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। ভোটের সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও কেন অঞ্চল সভাপতি পুনর্বহাল করা হল, সেই প্রশ্ন করেছেন দলের স্থানীয় কর্মীরা। সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় সিমলাপাল ব্লক এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

টাকার বিনিময়ে দলে অযোগ্যদের পদ
প্রসঙ্গত, এই সিমলাপালেরই বাসিন্দা বর্তমান বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহমহাপাত্র ওরফে 'পুটক্যা'। তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক ও বর্তমান জেলা তৃণমূলের 'অঘোষিত' সর্বময় কর্তা অরূপ চক্রবর্তীর 'অত্যন্ত ঘনিষ্ট' দলের জেলা সভাপতি নিজের এলাকায় 'পুটক্যা' নামে পরিচিত দিব্যেন্দু সিংহমহাপাত্রের বিরুদ্ধে শাসক দলের স্থানীয় নেতা কর্মীদের ক্ষোভ দীর্ঘ দিনের। শুধুমাত্র 'অরূপ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ট হওয়ার কারণেই ব্লক সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্বেও তাঁকে জেলা সভাপতি করা হয়েছে' বলেও দলের অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে। এই অবস্থায় দীর্ঘদিনের পঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এদিনের এই ঘটনা বলে অনেকে মনে করছেন।

দলের ব্লক কার্যালয় ভাঙচুর
ওই ভাঙচুরের ঘটনায় অন্যতম নেতৃত্বদানকারী, নিজেকে বিক্রমপুর অঞ্চল তৃণমূলের 'কনভেনর' দাবি করা নির্মল দাস বলেন, একদিকে 'জেলা সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা', অন্যদিকে তিনি 'নিয়ম না মেনে' অঞ্চল সভাপতি নিয়োগ করেছেন। তারই প্রতিবাদে এদিনের এই ঘটনা। একই সঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা দলের প্রচারে থাকেননি, 'দুর্নীতিতে যুক্ত' তাঁরাই পদ পেয়েছেন। এমনকি আইপ্যাকের জনৈক অমিত মিশ্রর সঙ্গে টাকার কন্ট্রাক্ট করে' 'ধান্দাবাজ' জনসংযোগহিমীন ব্যক্তিদের অঞ্চল সভাপতি পদে নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে সভাপতি ও বিধায়ক না আসা পর্যন্ত ব্লক তৃণমূল দপ্তরে তালা খোলা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

তৃণমূল মানেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
এপ্রসঙ্গে বিজেপির সিমলাপাল মণ্ডল-১ সভাপতি আলোক মহান্তি বলেন, তৃণমূলে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। তৃণমূল মানেই গোষ্ঠীদ্বন্দ। এখন তৃণমূলের ব্লক অফিস, আগে সেখানে ছিল ওই দলের 'বিধায়ক কার্যালয়'। পরে সেখান থেকে বর্তমান বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তীর নাম মুছে ফেলা হয়। যদু বংশ যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল তৃণমূল ঠিক সেইভাবেই ধ্বংস হবে বলেও এদিন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।

প্রতিক্রিয়া মেলেনি শীর্ষ নেতৃত্বের
উল্লেখ্য, গত রবিবারই বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি জেলার অঞ্চল সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেন, ঠিক তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই ঘটনা। এদিন দলীয় কর্মসূচীতে জেলা ও ব্লক তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কলকাতার নজরুল মঞ্চে উপস্থিত থাকায় এবিষয়ে তাঁদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications