অভিষেকের সফর শেষ হতেই তৃণমূলে বড় রদবদল! বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে চাপ বাড়ছে শাসকের?
পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার আগেই বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলে সাংগঠনিক স্তরে ব্যাপক রদলবদল শাসক দলের। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া থেকে যেতেই বড় সিদ্ধান্ত।
আজ রবিবার সিমলাপাল ব্লক তৃণমূলের তরফে দুবরাজপুর, বিক্রমপুর ও মণ্ডলগ্রাম এই তিন অঞ্চল সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই তিনটি পদেই নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে। এদিন সিমলাপালে দলীয় কার্যালয়ে নবনিযুক্ত তিন সভাপতির নাম ঘোষণা করেন ব্লক সভাপতি ফাল্গুনী সিংহবাবু।

তৃণমূল সূত্রে খবর, দুবরাজপুরে শ্রীহরি পাত্রকে সরিয়ে উদয় সিংহ, মণ্ডলগ্রামে সত্যভূষণ সন্নিগ্রহীর জায়গায় অর্দ্ধেন্দু সিংহমহাপাত্র ও বিক্রমপুরে অমিয় পাত্রের বদলে নির্মল দাশকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এঁরা প্রত্যেকেই সিমলাপালের বাসিন্দা তথা বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহমহাপাত্র মনোনিত ছিলেন বলেই খবর।
হঠাত কেন তাদের সরানো হল তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত ভোটের সিমলাপাল ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিরোধীরা। দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সিপিআইএম, বিক্রমপুর বিজেপি ও পার্শ্বলায় সিপিআইএম-বিজেপি যৌথভাবে পঞ্চায়েত দখল করে।

তাই এবারের পঞ্চায়েত ভোট শাসক দলের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেকারণেই দলের জেলা সভাপতির তরফে অঞ্চল সভাপতিদের নাম ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই সিমলাপাল ব্লক সভাপতি নতুন করে নাম ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের ধারণা।
যদিও এভাবে তৃণমূলের সভাপতি 'বদল' করেও কোন লাভ হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির সিমলাপাল-২ সভাপতি সুদিন মণ্ডল। তাঁর কথায়, শাসকের সন্ত্রাস মোকাবিলা করেও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত বিরোধীরা দখল করে। এবার সিমলাপালের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতই তৃণমূলের হাতছাড়া হবে বলে সুদিন দাবি করেন।
অন্যদিকে সিমলাপাল ব্লক তৃণমূল সভাপতি ফাল্গুনী সিংহবাবুর দাবি, দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই ওই তিন অঞ্চল সভাপতিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তাঁদের জায়গায় নতুন তিন জনকে নিয়োগ করা হলো। সদ্য প্রাক্তন ঐ তিন অঞ্চল সভাপতি এখন থেকে দলের ব্লক সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই নবজোয়ার কর্মসূচি নিয়ে বাঁকুড়া সফরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সভা করার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠক হয় নেতৃত্বের সঙ্গেও। আর এরপর তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁকুড়া সফর শেষ হতেই সাংগঠনিক স্তরে রদবদল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।












Click it and Unblock the Notifications