সম্প্রীতির নজির, এই গ্রামে পুজো দিয়ে রোজা ভাঙেন হিন্দু মহিলারা
সম্প্রীতির নজির গড়ে চলেছে বাঁকুড়ার কাঁকসা। প্রতি বছরের মতো এবছরও বিকাল পাঁচটা বাজতেই পুজো দিয়ে রোজা ভাঙলেন হিন্দু মহিলারা। কথাটা অবাস্তব হলেও গত ১১০০ বছর ধরে এমনই প্রথা চালু রয়েছে কাঁকসার সিলামপুরে।
সিলামপুর গ্রামে দামোদর নদের পাড়ে রয়েছে দুই বন্ধুর সমাধি।একজন হলেন বরাখান সহিদ ও মোবারক খান সহিদ। কাঁকসার শ্রীলামপুর গ্রামে জনশ্রুতি রয়েছে এই দুই বন্ধু প্রায় ১১০০ বছর আগে এই এলাকায় থাকতেন। মোবারক খান শহীদ যিনি পূর্বে সত্যনারায়ণ গোস্বামী নামে পরিচিত ছিলেন।

এক বন্ধু মুসলিম এবং এক বন্ধু হিন্দু হওয়া সত্বেও তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। দুইজনই এলাকায় ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন। পরে সত্যনারায়ণ গোস্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোবারক খান শহীদ হন। জানা যায় দুই বন্ধুর জন্ম একই দিনে হয়েছিল এবং মৃত্যুও একই দিনে হয়। এলাকার মানুষ ওই দুই বন্ধুর দেহ গ্রামেই সমাধিস্থ করেন। এরপর গ্রামের বহু মানুষ সমস্যায় পড়লে।
তারা স্বপ্নাদেশ পেয়ে দুই বন্ধুর সমাধিস্থলে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা জানানোর পর তারা স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাদের প্রতিকার খুঁজে পান। কথিত আছে এই দুই বন্ধু গোটা গ্রামের মানুষের উপর তাদের দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন যার কারণে গ্রামে তেমন কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা আজও ঘটেনি।
গ্রামের সমস্ত ধর্মের মানুষ একসাথে আনন্দে বসবাস করছেন। প্রতিবছর রমজান মাসে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা যখন একমাস ধরে রোজা রাখেন। সেই রমজান মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বৃহস্পতিবার হিন্দু মহিলারা নির্জলা উপবাস করেন যেটা গ্রামের মানুষের কাছে তো রোজা রাখা হয়।
এদিন কাঁকসার পাশাপাশি বাঁকুড়া, বীরভূম সহ আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা নির্জলা উপবাস করার পর এই দুই বন্ধুর মাজারে এসে পুজো দিয়ে সূর্যাস্তের পর মাজার সংলগ্ন পুকুর থেকে জল মুখে দিয়ে উপবাস ভাঙেন। এলাকার মানুষের দাবি বরা খান ও মোবারক খানের মাজারে পুজো দিয়ে তারা তাদের পরিবারের সুখ শান্তি কামনা করেন এবং অনেকেরই মনোবাসনা পূরণ হয়েছে।তাই কেউ সমাধিতে চাদর দিয়ে কেউ ফল মিষ্টি দিয়ে সেখানে পুজো দেন।
শোনা যায় এই মাজারের থেকে অনেকে মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে যায় এবং সেই মাটি কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগতে থাকা মানুষের গায়ে বুলিয়ে দিলে তাদের নাকি দুরারোগ্য ব্যাধি সেরে যায়। এদিন হিন্দু ধর্মের মহিলারা যখন তাদের একদিনের রোজা ভাঙতে মাজারে পুজো দিতে আসেন তখন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রতিবছর এমনই সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ে কাঁকসার












Click it and Unblock the Notifications