শিলাবতীর জলে ভাসছে রাস্তা, বাঁকুড়ার সঙ্গে ঝাড়গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
শিলাবতী নদী দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। বিপুল পরিমাণ জল বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। সড়কপথেও জল রয়েছে। বহু চাষের জমিতে জল ঢুকে গিয়েছে। গতকাল মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়া হয়। আরও জল কি ছাড়া হবে? সেই নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি হয়নি বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ন' নম্বর রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপাল এলাকায় জল বইছে। শিলাবতী নদীর সেতুর উপর দিয়ে জল বইছে। জলের তলায় ওই এলাকার পাথরডাঙার কজওয়েটিও। একই ছবি শিলাবতী নদীর উপরেই তালডাংরার হাড়মাসড়া সংলগ্ন ইঁটাপোড়া সেতুতেও।

সেতুর উপর জল থাকায় খাতড়া-বাঁকুড়া ভায়া হাড়মাসড়া রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। শিলাবতী নদীর উপর তিন তিনটি সেতু জলমগ্ন রয়েছে। বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে খাতড়া মহকুমা এলাকা ও প্রতিবেশী জেলা ঝাড়গ্রামের যোগাযোগ এখন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী যে তথ্য দিয়েছে, তা বেশ দুশ্চিন্তার। গত ৯৬ ঘন্টায় ২৫৬ মিলিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বাঁকুড়ায়। জেলার ২২ টি ব্লকই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শালতোড়া, বড়জোড়া, ওন্দা, জয়পুর, বিষ্ণুপুর, ইন্দাস, কোতুলপুর, পাত্রসায়র, সোনামুখী, সিমলাপাল, ইন্দপুর ও রাইপুর ব্লক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
১৬০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ সব থেকে বেশি। এর মধ্যে মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই হাজার। ১১২ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ২,৪১৫ জনকে সেই সব ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৫ হাজার ৯৬৪ টি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। ১৬.৫২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এরপর ব্যারাজগুলি থেকে অতিরিক্ত জল এলে কী হবে? সেই দুশ্চিন্তা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নবান্ন। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছে প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications