এক কোটি টাকা পেয়েছেন লটারিতে, ভয়ে খাতড়া থানায় থাকছেন রাবণ বাউরি
নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ঠিক দেখছেন তো। এতদিন লটারির টিকিট কাটছেন। কিন্তু কখনওই এমন কোনও বড় পুরস্কার পাওয়া যায়নি। তার লটারি টিকিটের নম্বরটাই তো সবার উপরে জ্বল জ্বল করছে। তার মানে কী প্রথম পুরস্কার? মানে এক কোটি টাকা?
বিষয়টি দেখেই হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল রাবণ বাউরির। এক কোটি টাকা প্রথম পুরস্কার লটারিতে জিতেছেন তিনি। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। মাসের সব দিন কাজ থাকে না। সংসারে অভাব রয়েছে। তার মধ্যে বাঁকুড়ার রাধারমোহনপুর নামে এক অখ্যাত গ্রামে বাস।

কীভাবে এই ঘটনা ঘটল? তাহলে কি স্বপ্ন? না কী বাস্তব? বেশ কিছুক্ষণ আকাশকুসুম এইসবই চিন্তা করেছিলেন মাঝবয়সী ওই ব্যক্তি। এরপর পরিবার, বন্ধু-বান্ধবকে বিষয়টি জানানো। তারপর সকলের পরামর্শ মতো পৌঁছে গিয়েছেন থানায়। নিরাপত্তার তাগিদে তিনি থানায় লটারি টিকিট নিয়ে রয়েছেন।
খাতড়ার রাধামোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রী রাবন বাউরি। এবার কপাল খুলে গেল তার। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় খড়বন মোড়ে প্রতিদিনে অভ্যাস লটারির টিকিট কাটা। ৩০ টাকা খরচ করে 'এক ঘর' লটারি কাটেন তিনি। আর তাতেই কেল্লাফতে।
রবিবার সন্ধ্যার ওই টিকিটেই এক কোটি টাকা পেলেন তিনি। কিন্তু সেই এক কোটি টাকা ঘুম কেড়েছে রাবণের। ব্যক্তিগত 'নিরাপত্তা'র স্বার্থে আপাতত আস্তানা গেড়েছেন খাতড়া থানায়। নিজমুখেই সেকথা জানালেন সদ্য 'কোটি পতি' রাবন বাউরি।
সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় চলছে এই বিষয়ে চর্চা। পরিবারেও সদস্যদের মুখেও আনন্দ। কবে টাকা পাওয়া যাবে তার অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। সংসারের আর্থিক সমস্যা দূর হবে। এবার এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
লটারির টিকিট দীর্ঘদিন ধরে কাটছেন ওই ব্যক্তি। ছোটখাটো পুরস্কার পেয়েছেন মাঝেমধ্যেই। কিন্তু প্রথম পুরস্কার এই প্রথম তিনি পেলেন। লটারি বিক্রেতা শিবু বাউরি বলেন, অনেক দিন ধরেই লটারির টিকিট বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এই প্রথম আমার বিক্রি করা টিকিটে এক কোটির প্রাইজমানি উঠল।
কোটিপতি রাবণ বাউরি বলেন, লটারিতে পাওয়া টাকা ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচের জন্য। আর মাথা গোঁজার মতো একখানা বাড়ি করাই এখন তার লক্ষ্য। এর বাইরে কী করবেন। এখনও ভেবে উঠতে পারেননি বলেই তিনি জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications