জুনিয়র ডাক্তারদের চাপে ফেলতে বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর নাম সরকারি তালিকায়? বাঁকুড়ায় এ কেমন ঘটনা?
বাঁকুড়ার সরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যু? না কি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর মৃত্যু? তাই নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হল। রাজ্য সরকার জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে রোগী মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করেছেন। আর সেখানে এই শিবু মালাকারের নাম আছে। কিন্তু কেন এই নাম থাকবে ওই তালিকায়? প্রশ্ন তুলেছে চিকিৎসক মহল৷
আরজি কর ইস্যুতে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের 'কর্মবিরতি'র চলছে। তার জেরে রোগী মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় ১০ নম্বরে নাম রয়েছে বাঁকুড়ার শিবু মালাকারের। ওই তালিকায় শিবু মালাকারের নাম কীভাবে জায়গা পেল? তার সুলুকসন্ধান করতে গিয়েই উঠে এল মারাত্মক তথ্য। শুরু রাজনৈতিক কাজিয়াও।

বাঁকুড়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লির বাসিন্দা ছিলেন শিবু মালাকার। পেশায় মুটের কাজ করতেন। দিন আনা দিন খাওয়া পরিস্থিতি। শিবুর মালাকারের গত ১১ আগস্ট সিভিয়ার ব্রেন স্ট্রোক হয়। পরিবারের তরফে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসায় সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠায় তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। পরিবার তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফের তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাছাকাছি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবার। সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২আগস্ট মৃত্যু হয় শিবুর।
মৃতের পরিবারের দাবি, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থাকাকালীন তাঁরা চিকিৎসা পরিসেবা পেয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসকরা চিকিৎসা করেছেন। নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরাও প্রয়োজনমতো পরিষেবা দিয়েছেন। শিবু মালাকারের নাম কীভাবে রাজ্য সরকার প্রকাশিত তালিকায় স্থান পেল? তাই নিয়ে রীতিমতো হতবাক বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে কর্তৃপক্ষও।
জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের জেরে শিবু মালাকারের চিকিৎসার কোনও গাফিলাতি হয়নি। দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। শিবু মালাকারের মৃত্যুর দায়ভার জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের উপরে চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। মৃতের পরিবার থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় গাফিলাতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যদিও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর দায় চাপিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকদের ঘাড়েই। প্রশ্ন উঠছে শিবু মালাকারের নাম ওই তালিকায় স্থান পেল কীভাবে? তবে কী শুধু রাজনৈতিক কারণে বা জুনিয়র চিকিৎসকদের চাপে ফেলতেই শিবু মালাকারের মতো মৃত্যুকে হাতিয়ার করছে রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার। রাজ্য সরকার এই ক্ষেত্রে একাধিক অভিসন্ধিমূলক কাজকর্ম করছে। এই সব করতে গিয়ে সেমসাইড গোল হয়ে যাচ্ছে। ওই পরিবারকে তৃণমূলের লোকেরা মিথ্যা বলতে চাপ দিচ্ছে। এমন অভিযোগ সুভাষ সরকারের।












Click it and Unblock the Notifications