Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Durga Puja 2024: বাঁকুড়ায় মল্ল রাজবাড়িতে আজ থেকেই শুরু পুজো, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মিশেল

সকাল থেকেই ব্যস্ততা৷ লোকজন এদিক ওদিক ব্যস্ত হয়ে চলাচল করছে৷ তিনটি তোপ দাগা হল৷ মল্লরাজ পরিবারে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো। মহালয়া এখনও দিন কয়েক বাকি। তার আগেই বাঁকুড়ার এই ইতিহাস প্রসিদ্ধ বাড়িতে উৎসব শুরু পুরনো প্রথা মেনেই।

মল্ল রাজাদের অধ্যায় সুপ্রাচীন। তবে তাঁরা এখন ইতিহাসের পাতায়। রাজাও নেই আর।নেই রাজ্যপাঠ। সেই বহু পুরনো রাজবাড়ির দেওয়ালেও ফাটল ধরেছে৷ ভাঙাচোরা রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় মল্লরাজাদের প্রাচীণ ইতিহাসের পদধ্বনি।

প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে চলতি বছরে বৃহস্পতিবার থেকেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দুর্গাপুজোর সূচনা হয়ে গেল৷ এবারের পুজোর বয়স ১০২৮ বছর। রাজ্যপাট নেই এখন। কিন্তু পুরনো রীতি, রেওয়াজ মেনেই এই পুজো হয়। প্রাচীণ রীতি মেনে এদিন থেকে শুরু হয়ে টানা ১৪ দিন চলবে পুজো।

'পট পুজো'ই এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরের শাঁখারি বাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকতা মেনে আজও ফি বছর বড় ঠাকুরানি, মেজ ঠাকুরানি ও ছোট ঠাকুরানির আলাদা-আলাদা তিনটি পট আঁকেন। মন্দিরে দেবী মৃন্ময়ী প্রতিমার পাশেই নির্দিষ্ট জায়গায় এই তিনটি পট রেখে পুজো হয়।

এদিন নবম্যাদি কল্প থেকে বড় ঠাকুরানি অর্থাৎ দেবী দশমস্কন্ধ কালী (যিনি শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন) পুজো শুরু হল। সকালে রাজবাড়ি সংলগ্ন রঘুনাথ সায়রে বড় ঠাকুরানির পটের স্নান পর্ব চলে। মন্দিরে প্রবেশের পর প্রথানুযায়ী তিন বার মূর্চ্ছা পাহাড়ে কামানের তোপধ্বনি দেওয়া হল।

পরে গর্ভগৃহে প্রবেশের মুহূর্তেও তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদনের সময় আরও তিন বার কামানের তোপধ্বণী দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বড় ঠাকুরানির পুজোর দিন থেকেই মল্ল রাজাদের প্রাচীন এই রাজধানীতে শারদোৎসবের সূচনা হয়ে গেল।

প্রাচীন প্রথানুযায়ী, দেবী পক্ষের মহাষষ্ঠীর দিন থেকে দেবী মহালক্ষ্মী ও দেবী সরস্বতীর পুজো শুরু হয়। বড়, মেজো ও ছোটো ঠাকুরানি এই তিন জনকেই দেবী মহামায়ার রূপ হিসেবে মানা হয়। মল্লরাজাদের হস্ত লিখিত বলীনারায়ণী পুঁথি অনুযায়ী পূজিতা হন।

৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দ, বাংলা ৪০৪ সাল, ৩০৩ মল্লাব্দে তৎকালীন রাজা জগৎ মল্ল বিষ্ণুপুরে দেবী মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ইনি মল্ল রাজাদের কূলদেবী। অতীতে রাজাদের আমলে যে আড়ম্বর ছিল, সময়ের দাবি মেনে তাতে কিছু ভাটা পড়ে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহে ভাটা এতটুকুও কমেনি। বরং বেড়েছে।

অন্যান্য পুজো কালিকাপূরাণ মতে হলেও এই রাজ্যে একমাত্র বিষ্ণুপুর রাজ পরিবারে বলিনারায়ণী মতে দুর্গাপুজো হয়। এমনই দাবি করা হয়। এক সময় এখানে পুজোয় বলি প্রথা চালু ছিল। রাজা হাম্বির মল্ল বৈষ্ণব মতে দিক্ষা নেন। তারপর বন্ধ হয়ে যায় বলি প্রথা।

তোপধ্বনির শব্দকে ব্রহ্ম হিসেবে বলা হয়েছিল৷ প্রাচীন রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর অষ্টমীর দিন থেকেই মন্দিরের গর্ভগৃহে অষ্ট ধাতু নির্মীত বিশালাক্ষ্মী ও নবমীর রাতে খচ্চরবাহিনী দেবীর পুজো হয়। বিজয়া দশমীতে দেবী মৃন্ময়ীর ঘট বিসর্জনের পর বড় ঠাকুরানি, মেজ ঠাকুরানি ও ছোট ঠাকুরানির ঘট বিসর্জন হয়। সব শেষে এই তিন ঠাকুরানির পট রাজবাড়ির অন্দরমহলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুজোর এই দিনগুলিতে মন্দির নগরীতে বিষ্ণুপুরে পর্যটকদের ঢল নামে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+