হাতের টানেই উঠে আসছে রাস্তার পিচ, পথশ্রী প্রকল্পে এমন বেহাল কাজ কোন জেলায়?
এ কেমন রাস্তা বানানো হয়েছে? হাতের এক টানে উঠে আসছে রাস্তার পিচ। রীতিমতো পিচের চলটা উঠে বেরিয়ে আসছে নীচের পুরনো রাস্তা, মাটি। পথশ্রী প্রকল্পের এমনই হতশ্রী দশা!
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের শহরতলি, গ্রামে রাস্তা তৈরির কাজ ছিল অন্যতম লক্ষ্য। আর সেই প্রকল্পেই এমন রাস্তা বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। লালমাটির জেলা বাঁকুড়ায় এই রাস্তার হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রানীবাঁধের হলুদকানালী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই রাস্তা। ভালুকাডুংরি থেকে তুংচাড়র মেন রোড পর্যন্ত ২.২ কিলোমিটার রাস্তা 'পথশ্রী' প্রকল্পে পিচ দেওয়ার কাজ শুরু হয়।
কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ শেষ করে এলাকা ছাড়ার আগেই সব গোলমাল হয়ে গিয়েছে। রাস্তার ওই পিচ আর মাটিতে থাকছে না। বরং হাতের টানে উঠে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি গ্রামবাসীদের তরফে স্থানীয় বিডিওকে জানানো হয়েছে বলে খবর।
হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে 'পথশ্রী' প্রকল্পে সদ্য তৈরি হওয়া রাস্তার পিচ। ঘটনাস্থল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, ওই রাস্তার কাজ শুরুর সময়ই আপত্তি জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেই মুহূর্তে 'কাজ বন্ধ রাখা'র কথা বলে। পরে তড়িঘড়ি কুচি পাথর দিয়ে রাস্তার কাজ শেষ করতে উদ্যোগী হয়। এখন হাতের টানে অতি সহজেই রাস্তার পিচ উঠে আসছে।
রানীবাঁধ বিজেপির ব্লক কনভেনর অভিজিৎ মণ্ডলের দাবি, তৃণমূলের 'উন্নয়ন মানেই দুর্নীতি'। এমন অনেক রাস্তা আছে যেখানে হাত নয়, জল ঢেলে দিলেও পিচ উঠে আসছে।
রানীবাঁধ ব্লক তৃণমূল সভাপতি উত্তম কুম্ভকারও গ্রামবাসীদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নিজে ওই রাস্তার কাজ দেখে এসেছেন। বিডিওকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শাস্তির সুপারিশও করা হয়েছে।
যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ মানতে নারাজ বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়। তিনি বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ নয়। মূলত আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জন্যই এমনটা হচ্ছে। চড়া রোদে পিচের রাস্তা তৈরি হলে এই পরিস্থিতি হত না।












Click it and Unblock the Notifications