৭৩ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই! পঞ্চায়েতের আগে শাসকের চাপ বাড়াচ্ছে কুর্মিরা
সামনেই পঞ্চায়েত ভোট! আর সেই ভোট ঘোষণার আগেই অস্বস্তি বাড়ল শাসকদল তৃণমূলের। অস্বস্তিতে ফেলে তফশীলি জাতিভূক্ত করা, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তপশীলের অন্তর্ভূক্ত করা ও সারণা ধর্মের পৃথক কোড চালুর দাবিতে পথ অবরোধ কুর্মি সমাজের মানুষের৷ ১২ ঘন্টার পথ অবরোধ শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৬ টা থেকে বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ন'নম্বর রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপালের হরিণটুলিতে পথ অবরোধে সামিল হয়েছেন আদিবাসী সমাজের মানুষেরা।
এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি জাতীয় এবং রাজ্যসড়কও অবরোধ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যার ফলে জাতীয় এবং রাজ্য সড়কগুলিতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে চলা এই অবরোধের জেরে সেই যানজট অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যার ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের জেরে আটকে পড়েছে অসংখ্য পণ্যবাহি যানবাহনও। সমস্যায় সাধারণ মানুষ। যদিও এই মুহূর্তে রাজ্য এবং জাতীয় সড়কগুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কুর্মি সমাজের তরফে দাবি করা হয়েছে, স্বাধীনতার আগে এরা 'তফশীল জাতি' ভূক্ত ছিলেন৷ কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে কোন অজ্ঞাত কারণে হঠাৎই এই সম্প্রদায়ের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়৷ এরপর থেকে তাঁদের নাম 'তফশীল জাতি' র আওতার বাইরেই আছে বলে অভিযোগ। আর এর ফলে অনগ্রসর শ্রেণীর হলেও শুধুমাত্র সরকারিভাবে তালিকাভূক্ত না হওয়ার কারণে সমস্ত ধরণের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আর এই কারণেই তাদের এই আন্দোলন বলে দাবি। শুধু তাই নয়, কুর্মি সমাজের তরফে এদিন দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ ৭ বছর হয়ে গেল, রাজ্য সরকার সি.আর.আই রিপোর্ট এখনো কেন্দ্রের কাছে পাঠায়নি বলেও অভিযোগ আন্দোলনকারী আদিবাসী সমাজের। এমনকি গত ৭৩ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলন ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই বলেও দাবি তাঁদের। আর তাই তাঁরা রাস্তায় নেমেই আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন।
এরপরেই এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের পথে আদিবাসী সমাজ হাঁটবে বলেও হুঁশিয়ারি। এমনকি প্রয়োজনে লাগাতার আন্দোলন এবং ধর্মঘটে পথেও তারা হাঁটবেন বলেও হুঁশিয়ারি কুর্মি সমাজের। তবে এর আগে একাধিকবার এহেন একাধিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মেনেও নিয়েছে। কিন্তু এরপরেও নয়া দাবিতে শাসকদলের চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকবহালমহল।












Click it and Unblock the Notifications