Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

হাসপাতালে ভর্তির আগেও নিজের লেখা গান রেকর্ড করেন 'লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা' খ্যাত সুভাষ চক্রবর্তী

তিনিই ছোট থেকেই ছিলেন গান পাগল। একের পর এক তাঁর সৃষ্টি স্রোতাদের মুগদ্ধ করেছে। কিন্তু চিরকালী আড়ালেই থেকে গিয়েছেন মানুষটি। গান চেনা হলেও আজকের প্রজন্মের কাছে তিনি অপরিচিত।

'লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা, রাঙামাটির দ্যাশে যা' খ্যাত বিশিষ্ট লোক সঙ্গীত শিল্পী, বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র সুভাষ চক্রবর্ত্তী প্রয়াত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শনিবার দুপুর ১১ টা ৫৫ নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথিতযশা এই শিল্পীর মৃত্যু সংবাদ বাঁকুড়ায় আসার পর শোকে মূহ্যমান জেলা সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ।

গত কয়েক দিন ধরেই তিনি কলকাতার বেসরকারি একটি হাসপাতালে 'ভ্যান্টিলেশানে' ছিলেন। এদিন দুপুরে তাঁর মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী অর্পিতা চক্রবর্ত্তী সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বাবার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন 'শেষ'।

ছোটো থেকেই 'গান পাগল' মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন

ছোটো থেকেই 'গান পাগল' মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন

বেলিয়াতোড় শ্যামবাজার, মণ্ডল পাড়ায় ১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারী সুভাষ চক্রবর্ত্তীর জন্ম। বেলিয়াতোড় হাই স্কুলে পড়াশুনার পাশাপাশি সোনামুখী কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক সুভাষ চক্রবর্ত্তী ছোটো থেকেই 'গান পাগল' মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সঙ্গীত শিল্পী বাবা প্রয়াত গোবর্দ্ধন চক্রবর্ত্তীর কাছ থেকেই সঙ্গীত শিক্ষার হাতে খড়ি তাঁর। শুরুর দিকে তবলা বাদক হিসেবে শুরু করলেও পরবর্ত্তী সময়ে লোক সঙ্গীত নিয়েই আমৃত্যু কাজ করেন।

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অজস্র যুগান্তকারী গানের জন্ম তাঁর হাত দিয়ে

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অজস্র যুগান্তকারী গানের জন্ম তাঁর হাত দিয়ে

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অজস্র যুগান্তকারী গানের জন্ম তাঁর হাত দিয়ে। পেয়েছেন অজস্র সরকারী, বেসরকারী সম্মাণ। কিন্তু নিজের জন্মভূমি বাঁকুড়ার প্রতি তাঁর 'টান' একদিনের জন্যই কমেনি। ইঁট, কাঠ, পাথরের জঙ্গল ছেড়ে কলকাতা ছেড়ে বারবার ফিরে এসেছে লাল মাটির বাঁকুড়ায়। একদিকে যেমন 'বাঁকুড়ার মাটিকে পেন্নাম করি দিনে দুপুরে...'তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি তাঁর জীবনের শেষ গান সেই জন্মভূমি বাঁকুড়াকে নিয়েই'। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিন আগেই নিজের লেখা ও সূরে তিনি রেকর্ড করেন 'বাঁকড়ি দেশের মানুষ আমি গাইবো ঝুমুর গান ঝুমুর গেয়ে রাখব্য আমি বাঁকুড়ার মান...' এভাবেই হয়তো জীবনদীপ নেভার আগেই শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন জন্মভূমি বাঁকুড়াকে, এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রাখবে

অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রাখবে

বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী তাপস দাশগুপ্ত বলেন, ছাঁদারের 'অভিব্যক্তি'র উৎপল চক্রবর্ত্তীর উদ্যোগে কলকাতার ভি.বালসারার কোম্পানীতে তাঁর গানের প্রথম রেকর্ড করা হয়। 'বাঁকুড়ার মাটিকে পেন্নাম করি দিনে দুপুরে'র মতো অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রাখবে। সুভাষ চক্রবর্ত্তীর মৃত্যু বাংলা সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি বলে তিনি মনে করছেন বলে জানান।

বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী রবি বাগদী বলেন, অসাধারণ।প্রতিভার অধিকারী সুভাষদা আর নেই ভাবতেই খারাপ লাগছে। বসে বসেই তাৎক্ষনিকভাবে গান লেখা থেকে সুর দেওয়া সব করতে পারতেন। দীর্ঘ ৪০-৪২ বছর একসাথে কাজ করেছি। সম্প্রতি শুশুনিয়াতে একটি শ্যুটিং এ আমাদের শেষ দেখা। সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঁকুড়া জেলাকে সারা দেশে শ্রেষ্ট আসীন করেছিলেন সুভাষ চক্রবর্ত্তীই বলে তিনি মনে করেন বলে জানান।

প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্ত্তীর পাঁচ বছরের ছোটো ভাই নান্টু চক্রবর্ত্তী বলেন, দাদা ছোটো থেকেই 'গান পাগল' ছিলেন। অধুনা কলকাতা নিবাসী হলেও বারবার বেলিয়াতোড়ের বাড়িতে তিনি আসতেন বলে জানান।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+