বন্ধুর বাইকে যাওয়াই কাল হল? পথ দুর্ঘটনায় বাঁকুড়ায় মৃত্যু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর
অন্য বন্ধুর মোটর বাইকে করে পরীক্ষা দিতে যাওয়াই কাল হল৷ পথ দুর্ঘটনায় মারা গেল ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অত্যন্ত মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তারপর শুরু হয়েছিল যমে মানুষে টানাটানি।
মৃত ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নাম রুদ্র মাণ্ডি। সে বিষ্ণুপুরের রাধাকান্ত বিদ্যাপীঠের ছাত্র। তার বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। তিনি ছেলেকে সেজন্য পরীক্ষার হলে দিতে যেতে পারতেন না। এদিকে টাকা দিয়ে অন্য গাড়িতে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা যায়নি।

বন্ধুর মোটরবাইকেই পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল ওই ছাত্র। পথ দুর্ঘটনায় মারা গেল ওই ছাত্র। জয়কৃষ্ণপুর হাইস্কুলে তাদের এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে। প্রত্যেক দিনই মোটর বাইক করে তিন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল৷ ওই মোটর বাইকে বাড়ি ফেরা পরীক্ষা শেষে।
গতকাল বৃহষ্পতিবারও নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল রুদ্র মাণ্ডি। তিন বন্ধু মোটর বাইক করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল৷ পথেই ঘটল অঘটন। পথে ধানগোড়ার কাছে উল্টো দিক থেকে একটি বাস চলে আসে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় বাইকের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই বাইকে থাকা রুদ্র মাণ্ডি সহ তিন পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে স্থানীয় রাধানগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। আঘাত তেমন গুরুতর না হওয়ায় একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
রুদ্র মাণ্ডি ও মহাদেব লোহারের চোট গুরুতর। তাদের বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রুদ্র মাণ্ডির অবস্থা আশঙ্কাজনকা হয়ে যায়। তাকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যমে মানুষে টানাটানি চলে। আর ফেরানো গেল না রুদ্রকে।
শুক্রবার রুদ্রর বাড়ির এলাকা থমথমে। ছেলের মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না বাবা। পরিবারের সদস্যরাও শোকে ভেঙে পড়েছেন। রুদ্র মাণ্ডির এক সময়ের গৃহশিক্ষক শান্তনু বারিক বলেন, ছাত্র অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিল। তার সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকরাও এই অকস্মাৎ দু:সংবাদে শোকাহত।












Click it and Unblock the Notifications