বাঁকুড়ার ছেঁদাপাথরের গুহায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতেন ক্ষুদিরাম, মাওবাদীদের রুখতে বন্ধ গুহামুখ

বাঁকুড়ার ছেঁদাপাথরের গুহায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতেন ক্ষুদিরাম, মাওবাদীদের রুখতে বন্ধ গুহামুখ

চারিদিকে ঘন জঙ্গল তার মাঝেই গাছপালায় ঢাকা চুনাপাথরের একটি গুহা। গুহার সামনে জল জমে রয়েছে৷ বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে সীমান্তের ছেঁদাপাথরের জঙ্গলের এই গুহা-টি লোকের কাছে 'ক্ষুদিরাম গুহা' নামেই পরিচিত৷ বেশ কয়েকবছর হল গুহার মুখটি বন্ধ রয়েছে, মাওবাদী গতিবিধি রুখতে৷ কিন্তু ইতিহাস বলছে এই গুহাতে বসেই বোমা বানানো, অস্ত্রপ্রশিক্ষণ সহ কিংসফোর্ড হত্যার প্ল্যানের স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছে গুহাটি!

বাঁকুড়ার ক্ষুদিরাম গুহা

বাঁকুড়ার ক্ষুদিরাম গুহা

বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত হলেও ঝাড়গ্রাম জেলা শহর থেকে ছেঁদাপাথরের দূরত্ব মাত্র ৪৪ কিমি। যেখানে বাঁকুড়া শহর থেকে ছেঁদাপাথর প্রায় ৭৫ কিলোমিটার৷ ছেঁদাপাথর গ্রাম থেকে আরও প্রায় ৪ কিলোমিটার জঙ্গলের ভেতরে এই গুহা৷ চারিদিকের সবুজ গুহাটিকে যেন আড়াল করে রেখেছে৷ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও দেখার মতো৷ শোনা যায় ১৯০০ সালের শুরুর দিকে এই এলাকা ছিল জমিদার ধবলদেবের অধীনেই৷ এই ধবলদেব পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন ক্ষুদিরাম!

কী বলছে ইতিহাস?

কী বলছে ইতিহাস?

একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের থিম সং ছিল, 'ইঁটকাঠ পাথরের পাঁজরে, ইতিহাস ফিসফাস কথা কয়!' শুধু ইঁটকাঠ পাথরের পাঁজরে নয়, অনেক সময় গুহার পাথরের দেওয়ালও বুকে আগলে রাখে ইতিহাসকে৷ তেমনই এক ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলেছে ছেঁদাপাথরের গুহা৷ ১৯০৫ সাল, লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করে দিয়েছিন। পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রায় সারা দেশের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে! সে সময় মেদিনীপুর অনুশীলন সমিতির বেশ কয়েকজন বিপ্লবী ও ক্ষুদিরাম ঠিক করলেন 'বড় কিছু করার', এমন কিছু যা বাংলায় ইংরেজ সরকারের ভিত নড়িয়ে দেয়।

জমিদার ধবলদেবদের সাহায্যেই গড়ে ওঠে গুহায় অস্ত্রপ্রশিক্ষণ সেন্টার

জমিদার ধবলদেবদের সাহায্যেই গড়ে ওঠে গুহায় অস্ত্রপ্রশিক্ষণ সেন্টার

জঙ্গলমহলের অম্বিকানগরের জমিদার রাইচরণ ধবলদেবের উদ্যোগে ছেঁদাপাথরের এই গভীর জঙ্গলে ঢাকা পড়া গুহায় শুরু হল ক্ষুদিরামদের অস্ত্রপ্রশিক্ষণ৷ তখন ছেঁদাপাথর ও আশেপাশের গ্রামে লোকবসতি তেমন একটা গড়ে ওঠেনি৷ তাই ইংরাজদের চরদের চোখ এড়িয়ে এই গুহায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হল ক্ষুদিরামদের কাছে। প্রচলিত মতে এরকমটাও শোনা যায় এই গুহাতে বসেই কিংসফোর্ডকে হত্যার ছক তৈরি করেছিলেন ক্ষুদিরাম সহ অন্যান্য বিপ্লবীরা!

মাওবাদীদের ভয়ে বন্ধ ক্ষুদিরাম গুহামুখ!

মাওবাদীদের ভয়ে বন্ধ ক্ষুদিরাম গুহামুখ!

দেশ স্বাধীনতা লাভের পর অনেক বছর পর্যন্ত এলাকার মানুষ ও বাইরের পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় স্থান ছিল এই ক্ষুদিরাম গুহা৷ কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে জঙ্গলমহল জুড়ে ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে যায় মাওবাদী কার্যকলাপ। শুরু হয় যৌথবাহিনীর গ্রিনহান্ট অপারেশন। সেসময় গভীর জঙ্গলের এই গুহাটিকে মাওবাদীরা তাদের আস্তান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এই ভয় থেকে প্রশাসন ছেঁদাপাথরের গুহার প্রবেশ মুখটি বন্ধ করে দেয়। পরে অবশ্য সংস্কারের উদ্দেশ্যে খোলাও হয় ক্ষুদিরাম গুহা৷ এলাকার মানুষের দাবি এই গুহাকে কেন্দ্র করে একটি ক্ষুদিরাম স্মারক সংগ্রহশালা যাতে গড়ে তোলা হয়৷

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+