সাঁওতালি ভাষায় উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম দিনমজুর বাড়ির মেয়ে জোৎস্না কিসকু
মাধ্যমিক , মাদ্রাসার মেধা তালিকার অন্ধকার কাটিয়ে জেগে উঠলেন জ্যোৎস্না। জ্যোৎস্না কিসকু, সাঁওতালি ভাষায় ৪৮৬ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় রাজ্যে প্রথম। কেবল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল নয়। সারা বাঁকুড়ার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে।
পরিবারে অনটন লেগেই রয়েছে। বাবার সঙ্গে চাষের জমিতে হাত লাগাতে যায় জ্যোৎস্না। আজ পরীক্ষার ফল বেরনোর দিনেও মাঠে সে গিয়েছিল কাজ করতে। এখন ধান কাটার সময়। বাবা- মায়ের সঙ্গে সেও তাই ধান কাটতে গিয়েছিল।

জ্যোৎস্না পঞ্চম শ্রেণি থেকেই বাঁকুড়ার রাইপুরের পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু বিদ্যালয়ের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাড়াও বিশেষভাবে পড়াশোনায় যত্ন নিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়।
জ্যোৎস্নার বাড়ি বাঁকুড়ার সারেঙ্গার কাঠগড়া গ্রামে। এক দিন কাজ না হলে দিন চলে না। এমন অবস্থা তাদের সংসারে। বাবা - মা দুজনেই কাজ করে। আজ যখন ফল প্রকাশ হচ্ছে, তখনও একই ভাবে তারা মাঠে কাজ করছেন।
বুধবার সকালেই জ্যোৎস্না মা বাবার সঙ্গে মাঠে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। দাদা, খবর জেনে মাঠে ছুটে যায় মাঠে। মা বাবা এবং বোনকে খবর দেয় সে। কাস্তে হাতে মা, বাবা তখন দাঁড়িয়ে। মেয়ের এই ফলাফলে তারা আনন্দে আত্মহারা। হাউ হাউ করে মাঠেই কেঁদে ফেললেন বাবা - মা। দাদা, বোনের চোখেও তখন জলের ধারা।
জ্যোৎস্না জানান, আমরা এতটাই গরিব। বাবা একদিন দিনমজুরির কাজে না গেলে আমাদের সংসার চালানো খুব জটিল হয়ে যায়। মা-বাবা যদি আমাকে পড়াতে চান তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষিকা হব। এটাই আমার ইচ্ছা।
বাবা শুকদেব কিসকু এবং মা শর্মিলা দেবী জানালেন, মেয়ে যতদূর পড়তে চায়, প্রাণপণ চেষ্টা করব ওর ইচ্ছেপূরণ করতে। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানালেন পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের। তারা পাশে না থাকলে মেয়ের এই ফল হত না।












Click it and Unblock the Notifications