ঝালদার কাউন্সিলর তপন কান্দুকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার চাপ, ভাইপোকে জেরায় প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঝালদার কাউন্সিলর তপন কান্দুকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার চাপ, ভাইপোকে জেরায় প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঝালদায় কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল তাঁরই ভাইপো দীপক কান্দুকে। পারিবারিক শত্রুতা না রাজনৈতিক কারণ কোন কারণে তপন কান্দু খুন হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিবারের দাবি তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হত। এমনকী ঝালদা থানার আইসিও তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। দীপক কান্দুর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। সেকথা জানত তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বও। সেই শত্রুতার কারণেও দীপক কান্দুকে
খুন করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝালদায় কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে একের পর এক চঞ্চল্যকর তথ্য। পুরসভা ভোটে ত্রিশঙ্কু হয়েছিল ঝালদা পুরসভা। তারপর থেকেই বোর্ড গঠন নিয়ে টানা পোড়েন শুরু হয়। কাউন্সিলর তপন কান্দুকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। এই চাপ তৈরির নেপথ্যে ছিলেন তপন কান্দুর ভাইপো দীপক কান্দু। তিনি নিজে তৃণমূল কংগ্রেস করতেন। একই পরিবারের সদস্য হলেও আলাদা বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। তপন কান্দুর সঙ্গে তাঁর ভাইপোর বিবাদের কথা জানত স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও। সেই সন্দেহের বশেই গতকাল সকালে প্রথমে আটক করা হয়েছিল তপন কান্দুর ভাইপোকে। পরে রাতের দিকে তাঁর কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে তপন কান্দুর ভাইপো দীপক কান্দুর সঙ্গে ঝালদা থানার আইসির টেলিফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। তাতে ঝালদা থানার আইসি তপন কান্দুর উপর তৃণমূল কংগ্রসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করতে বলছেন তাঁর ভাইপো দীপক কান্দুকে। যদিও সেই অডিও ক্লিপ কতটা সত্যি তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে তপন কান্দুরে ভাইপো দীপক কান্দুকে জেরা করে একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছে পুলিশ। তাঁর বয়ানের উপর ভিত্তি করে আজ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তপন কান্দুর পরিবারের দাবি পুরসভা ভোটে জয়ের পর থেকে ত্রিশঙ্কু ঝালদায় পুরবোর্ড গঠনে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বারবার তপন কান্দুর উপর তৃণমূল কংগ্রসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা অভিযোগ জানাতে চান বলে জানিয়েছেন। এদিকে তপন কান্দুর খুনের ঘটনার তদন্তে পুরুলিয়ার উচ্চ পদস্থ আধিকারীকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications