অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে 'ডাক শিল্প', পেশা বদলাচ্ছেন অনেক শিল্পী
এক বছরের অপেক্ষা শেষ, মা আসছেন। আর মায়ের সেই আগমণী বার্তা যেন জানান দিচ্ছে শরতের আকাশ, মাঠ ভরা কাশ ফুল, ভোরের শিশির বিন্দু আর শিউলীর গন্ধ। চরম ব্যস্ততায় প্রতিমা শিল্পীর। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত শোলার কাজের তৈরি প্রতিমার অঙ্গসজ্জা বহুল প্ৰচলিত। কিন্তু বংশ পরম্পরায় 'মা'কে ডাকের সাজ সাজানোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে যাঁরা তুলে নিয়েছেন সেই শিল্পীদের মুখে হাসি নেই। কারণ প্রতিযোগীতার বাজারে পেরে ওঠা দায় হয়েছে তাঁদের। ফলে সংকটে প্রাচীণ এই শিল্প ও শিল্পী দু'জনেই।
প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা এই ডাকের সাজ তৈরী করতে সময় লাগে প্রায় দু মাস। দুমাস ধরে কঠোর পরিশ্রমের পরও সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না শিল্পীরা। যার জেরে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বদলে যাচ্ছে পেশা। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ক্রমশ কঠিন হচ্ছে হেলা পালদের মতো শিল্পীদের। কোন ছোটো বেলা থেকেই বাপ ঠাকুর্দার হাত ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমানে লাভের ঘর 'শূণ্য'। কষ্টের কথা বলতে বলতে চোখের কোনে জল বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের ডাক শিল্পী হেলা পালের। ক্রমাগত ডাকের সাজ তৈরির কাঁচা মালের দাম বৃদ্ধি সেই সঙ্গে 'রেডিমেড' ডাকের সাজের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন হেলা পালদের মতো শিল্পীরা।

একদিকে কাঁচা মালের দাম অন্যদিকে 'রেডিমেড' ডাকের সাজ, ফলে এই প্রতিযোগিতায় কতো দিন আর কিভাবে এই ব্যবসা ধরে রাখবেন বুঝে উঠতে পারছেননা বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের ডাক শিল্পীরা। ফলে এই অবস্থায় অনেকেই পেশা বদলে বাধ্য হচ্ছেন, তেমনই একজন রাহুল পাল
বেলিয়াতোড় বাজারে ছোট্ট একটি দোকান দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, একটা সময় এই পুজোর আগে দম ফেলার সময় থাকত না। ৪০ থেকে ৫০ টি পর্যন্ত ডাকের সজ্জা তৈরি করতে হয়েছে।"
বর্তমানে হাতে তৈরি ডাকের সজ্জার বদলে রেডিমেড' ডাকের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। ফলে শোলার তৈরি ডাকের চাহিদা কমতে কমতে তলানীতে ঠেকেছে। শোলার দাম বৃদ্ধি ও শিল্পীদের সংখ্যা কমে আসায় বংশপরম্পরায় যাঁরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত তাঁরাও ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বর্তমানে থিম কালচারের যুগে ডাকের সাজ প্রায় হারিয়ে হয়েছে বললেই চলে।
একটা সময় সর্বজনীন পুজোগুলিতে ডাকের সাজের কদর ছিল। দুর্গোৎসবের সময় এক প্রকার নাওয়া খাওয়া ভুলে ডাকের কাজ করতে হত শিল্পীদের। কিন্তু আজ সব অতীত সর্বজনীন পুজোগুলিতে কদর কমেছে ডাকের সাজের। সবার ঝোক এখন থিম পুজোয়। ফলে চাহিদাও কমেছে। ফলে বর্তমানে নতুন কাজের অর্ডার না পেয়ে হতাশ শিল্পীরা। চাহিদা নেই ফলে কাজও নেই, তাই ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক শিল্পী। বেঁচে নিচ্ছে অন্য জীবিকা। তাই শিল্পীর অভাবে আজ অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে এই শিল্প ও শিল্পী দু'জনেই।












Click it and Unblock the Notifications