Happy Teachers' Day: স্কুলের গণ্ডী পেরোয়নি পরিবারের কেউ, অষ্টম শ্রেণির সৌরভই এলাকার 'স্যার'
Happy Teachers' Day: শিক্ষক দিবসে সৌরভ নামে এক ক্ষুদে শিক্ষকের গল্প শোনাবো আপনাদের, এ গল্প, গল্প হলেও সত্যি। যে বয়সে ছেলে মেয়েরা মাঠে ঘাটে খেলাধুলা করে বেড়ায়, সেই বয়সে আমাদের এই সৌরভ ছোটো ছোটো ভাই বোনদের পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছে।
পড়ুয়ারাও ভীষণ ভালোবাসে তাদের সৌরভ স্যারকে, থুড়ি সৌরভ মামাকে। আজকের এই ক্ষুদে শিক্ষকের পুরো নাম সৌরভ ব্যাধ, সে এখনো পর্যন্ত যাযাবর সম্প্রদায়ের প্রথম প্রজন্মের সদস্য যে প্রাথমিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে হাই স্কুলে পা রেখেছে।

তালডাংরার শতাব্দী প্রাচীণ হাড়মাসড়া হাই স্কুলের ক্লাস এইটের সৌরভ নামের এই ছাত্রই এখন শিক্ষকের (Happy Teachers' Day) ভূমিকায়। এখনো পর্যন্ত সে নিজে যা শিখেছে তা নিজের মতো করেই শেখানোর চেষ্টা করছে তাদের যাযাবর সম্প্রদায়ের ছোটো ছোটো ভাই বোন গুলোকে।
প্রতিদিন সকাল আর বিকেলে হাড়মাসড়া সংলগ্ন জেমুয়া যাযাবর কলোনীতে খোলা আকাশের নিচে গাছের তলায় চলে সৌরভের স্কুল। সেখানে 'অ এ অজগরটি আসছে তেড়ে...'থেকে 'একে চন্দ্র, দুই এ পক্ষ' সবই শিখছে ওখানকার শিশুরা প্রসঙ্গত, তালডাংরার হাড়মাসড়ার জেমুয়া যাযাবর কলোনীতে ৭ টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন সদস্য বসবাস করেন। স্থায়ী রোজগারের সেভাবে কোন সুযোগ না থাকায় এক প্রকার অর্থাভাবেই দিন কাটে তাদের।
অর্থ যেখানে ভাবায় সেখানে শিক্ষাগ্রহণ যেন বিলাসিতা! কিন্তু এসবকে মিথ্যা প্রমাণ করে এই এলাকায় যাযাবর সম্প্রদায়ের প্রথম প্রজন্ম সৌরভ যে হাই স্কুল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকা নয়, সে চায় তার মতো পাড়ার অন্যান্যরাও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক।
ক্ষুদে শিক্ষক সৌরভের কথায়, আগে আমাদের কেউই স্কুল যাওয়ার কথা ভাবেনি, সুযোগও ছিলনা। এখন আমি নিজে হাড়মাসড়া হাই স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ি, সাথে সাথে পাড়ার ভাই বোন গুলোরও অক্ষর পরিচয় করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি। তবে বর্তমানে বিষ্ণুপুরের 'কাজি বাবু' এই কাজে যথেষ্ট সহযোগীতা করছেন বলে সে জানায়।

সৌরভের এই কর্মকাণ্ডে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছেন 'বিষ্ণুপুর আমরা করবো জয়ে'র কর্ণধার মুজিবর কাজি। সৌরভ ও তার ছাত্রদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী থেকে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করে পাশে থেকেছেন তাঁরাও। মুজিবর কাজি বলেন, শিক্ষার অধিকার প্রতিটি শিশুর আছে। আমরা আমাদের মতো করে এই যাযাবর শিশুদের পাশে আছি। চাইলে যে কেউ এই কর্মযজ্ঞে সামিল হতে পারেন বলে তিনি জানান।
'সৌরভ মামা'কে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে বেজায় খুশী ক্লাস ফাইভের বিশ্বরুপ, ওয়ানের কল্পনা ব্যাধরা। তাঁদের কথায় সৌরভ মামা প্রতিদিন দু'বেলা আমাদের পড়ায়। পড়াশুনা করতে বেশ ভালোই লাগে বলে এই যাযাবর শিশুরা জানিয়েছে। ছেলের এই কর্মকাণ্ডে বেজায় খুশী মা পিঙ্কু ব্যাধ।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আগে কেউই স্কুলে যেতোনা, আমিই উদ্যোগ নিয়ে আমার ছেলে মেয়েকে প্রথমে স্কুলে ভর্তি করি। এখন অনেকেই যাচ্ছে, আর তাদের পড়াশুনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে ছেলে সৌরভ। একজন মা হিসেবে এই ঘটনায় তিনি গর্বিত বলেই জানান।












Click it and Unblock the Notifications