পরিবারের একমাত্র রোজগেরে! টোটো চালক মইদুলের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে! টোটো চালক মইদুলের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী
নবান্ন অভিযানে গিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতেই ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল আলি মিদ্যার (৩১) মৃত্যুর অভিযোগ উঠলো। রবিবার রাতে বাঁকুড়ার কোতুলপুরের চোরকোলা গ্রামের বাসিন্দা এই যুব কর্মীর কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশে লাঠির আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের কর্মীর। তবে যাতে না দেহ নিয়ে পুলিশ বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে না পারে সেজন্য সতর্ক ডিওয়াইএফআই কর্মীরা। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

ঘনঘন মূর্ছা যাচ্ছেন মৃত মইদুল আলি মিদ্যার স্ত্রী।
ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল আলি মিদ্যার ঘটনায় শোকস্তব্ধ কোতুলপুর। মিদ্যার বাড়ি ওই এলাকায়। বাঁকুড়ার কোতুলপুর গ্রামে মিদ্যার বাড়ি। আর সেখানে মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ পরিবার। ভাষা নেই কিছু বলার। ঘনঘন মূর্ছা যাচ্ছেন মৃত
মইদুল আলি মিদ্যার স্ত্রী। খবর পেয়ে পৌছে গিয়েছেন আত্মীয়স্বজনরা। বাড়িতে পাড়া প্রতিবেশীদের ভীড়। এসেছেন স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্বও। সকলেই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন মইদুলের ভাই।

রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা মইদুল আলি মিদ্যার পরিবার।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল আলি মিদ্যা। টোটো চালিয়েই চলত পরিবাত। আর তাঁকে হারিয়ে এখন একেবারে দিশেহারামইদুল আলি মিদ্যার পরিবার। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়ে মেয়ে। এই অবস্থায় কিভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছেন না কেউই।
কার্যত বাড়ির এক রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়েছে পরিবারে। ডিওয়াইএফআই নেতা ধনঞ্জয় বেজ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, খুব দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ধার দেনা করে টোটো কিনে সংসার চালাতো। বাম ছাত্র যুব সংগঠন গুলির ডাকে নবান্ন অভিযানে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশী অত্যাচারে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবি তারা দলের পক্ষ থেকে জানাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

পুলিশের লাঠির আঘাতে প্রস্রাব দিয়ে রক্ত বের হয়ে
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নবান্ন চলো'র ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র যুব সংগঠন গুলি। পুলিশের তরফে বাম যুব কর্মীদের আটকানোর জন্য ব্যারিকেড তৈরী করে। এমনকি যথেচ্ছ লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে সেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর ঐ ঘটনায় আরো অনেকের সঙ্গে গুরুতর আহত হন কোতুলপুরের মইদুল ইসলাম মিদ্যাও। প্রথমে তাকে সিপিআইএম নেতা ফুয়াদ হালিমের নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।
নার্সিংহোম সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুলিশের লাঠির আঘাতে প্রস্রাব দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায় সেদিন। লাঠির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মইদুল ইসলাম মিদ্যা। এরপর থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পেশায় চিকিৎসক ও DYFI নেতা ফুয়াদ আলিম এক প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ১৩ তারিখ সকালে জানা যায় কিডনি ফেলিওর হয়। পুলিশের লাঠির আঘাত পেশির উপর পড়ায়, পেশি ফেটে যায়। সেখান থেকে যে প্রোটিন বের হয়। তা কিডনিকে ব্লক করে দেয়।প্রথম দিন থেকে তদারকিতে ছিল। রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারি, সোডিয়াম নেমে গিয়েছে, পটাশিয়াম বেড়ে গিয়েছিল। ১৪ তারিখ আরও অবনতি ঘটে। রবিবার রাত্রে সামান্য ভাল হয়েছিল। কিন্তু ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে। কিন্তু ১৫ তারিখ সকালে লড়াই শেষ করেন মইদুল ইসলাম মিদ্যা"












Click it and Unblock the Notifications