প্রবল শব্দে এগোচ্ছে দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, জল বাড়লে ভাসার আশঙ্কায় বাঁকুড়া
যে নদীতে সারাবছর হাঁটুজল থাকে, তাকে এখন চেনা দায়। জলের শব্দে দিশেহারা মানুষজন। নদী ভেসে যাচ্ছে। নদী ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাঁকুড়া জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, শিলাবতী, গন্ধেশ্বরী নদী তাদের রূপ বদলে ফেলেছে। ক্রমশ জল বাড়ছে এইসব নদীতে।
বাঁকুড়া জেলার নদীগুলিতে জল গত দুদিনে লক্ষ্যনীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছে। নিম্নচাপের জেরে ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এই জেলায়। গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই ভয়াবহ বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে গত ৭২ ঘণ্টায়। বদলে গিয়েছে নদীগুলির চরিত্র। যে কোনও সময় বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার কবলে চলে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একদিকে নিম্নচাপের বৃষ্টি। অন্যদিকে কংসাবতী জলাধার থেকে ধারাবাহিকভাবে জল ছাড়া। জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলি যেন ভয়াল আকার নিয়েছে। কংসাবতী গতকালই ভাসাতে শুরু করেছে আশপাশের এলাকা। মঙ্গলবার গভীর রাতের বৃষ্টিতে সেই চেহারা আরও ভয়াবহ হয়েছে।
দ্বারকেশ্বর নদ রীতিমতো বিধ্বংসী চেহারা নিয়েছে। নদীতে প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতা বেড়েছে জলের। প্রশাসনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ এই নদ। প্রতিবারই বন্যায় দ্বারকেশ্বর বিস্তীর্ণ এলাকাকে প্লাবিত করে। সেই ছবি কী এবারও ফিরে আসবে? আশঙ্কার মেঘ দেখা দিয়েছে প্রশাসনের মধ্যেও। এই নদের উপর মীনাপুর ও ভাদল সেতু আছে। সেই সেতুর উপর দিয়ে জল বয়েছে মঙ্গলবার। সে কারণে ওই দুই সেতুতে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ।
ডিভিসি আরও জল ছাড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে? সেই আশঙ্কা প্রশাসনের মধ্যেও আছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের সূত্রে পাওয়া খবর, বুধবার বেলা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। সব জায়গাতেই খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় মাটির বাঁধ দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। কিছু জায়গায় জমিতে জল ঢোকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেইসব মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।
শিলাবতী, কংসাবতী, গন্ধেশ্বরী নদীগুলিও ফুঁসছে। দামোদরের একটা অংশ বাঁকুড়ার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। সেই দামোদরেও জলের স্রোত বইছে৷ দামোদরের পাশের ছটি ব্লক এলাকাকে সতর্ক করা হয়েছে। নীচু এলাকা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।
ডিভিসি জল ছাড়ায় পরিস্থিতি যথেষ্ট খারাপ হয়েছে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বরজোড়া, পাত্রসায়র, ইন্দাস এলাকায় নজরদারি রয়েছে। তবে যে কোনও সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications