কংগ্রেসের ডাকা বনধের দিনেই ঝালদায় তপন কান্দু খুনের প্রত্যক্ষদর্শীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
কংগ্রেসের ডাকা বনধের দিনেই ঝালদায় তপন কান্দু খুনের প্রত্যক্ষদর্শীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
কংগ্রেসের ডাকা ১২ ঘণ্টার ঝালদা বনধের মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা। বুধবার সকালে ঝালদায় উদ্ধার হয়েছে তপন কান্দু খুনে প্রত্যক্ষদর্শী সেফাল বৈষ্ণবের দেহ। ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘরে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। হঠাৎ করে প্রত্যক্ষদর্শীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝালদায়।

ঝালদায় দেহ উদ্ধার
আজ কংগ্রেসের ডাকে ১২ ঘণ্টার বনধ হচ্ছে ঝালদায়। তারই মধ্যে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। ঝালদায় তপন কান্দু হত্যাকাণ্ডে অন্যতম সাক্ষী এবং সেফাল বৈষ্ণব বা নিরঞ্জন বৈষ্ণবের ঝুলন্ত দেহ। তাই নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ঝালদায়। সুইসাইড নোটে পুলিশের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিরঞ্জন বৈষ্ণব। এর আগে তপন কান্দুর পরিবারও এই ঘটনায় পুলিশের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। বারবার পুলিশের বিরুদ্ধের চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্নিমা কান্দু।

কী লেখা রয়েছে সুইসাইড নোটে
তপন কান্দু বন্ধু এবং ঘটনার প্রত্যক্ষ দর্শী নিরঞ্জন বৈষ্ণবের ঝুলন্ত দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে যে সুইসাইড নোটটি তাতে বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, 'যেদিন তপনের মৃত্যু হয়, সেদিন থেকে আমি মানসিক অবসাদে ভুগছি। যে দৃশ্যটি দেখেছি, তা মাথা থেকে কোনওরকমে বের হচ্ছে না। ফলে রাতে ঘুম হচ্ছে না। খেতে মন যাচ্ছে না। শুধু এই ঘটনাই মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তারপর পুলিশের বারবার ডাক। আমি জীবনে থানার চৌকাঠ পার করিনি। এইসব আমি আর সহ্য করতে না পারার জন্য এই পথ বেছে নিলাম। এতে কারও কোনওরূপ প্ররোচনা, চাপ বা হাত নেই। আমি স্বেচ্ছায় আত্মত্যাগ করলাম। ইতি নিরঞ্জন বৈষ্ণব (সেফাল)।'

১২ ঘণ্টার বনধ
আজ ঝালদায় ১২ ঘণ্টার বনধ পালন করছে কংগ্রেস। গতকাল কংগ্রেসের মৌন মিছিলে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছিল। আজ ঝালদায় ১২ ঘণ্টা বনধ পালন করা হচ্ছে। ঝালদার কংগ্রেস নেতা দাবি করেছিলেন যে সবরকম জরুরি পরিষেবাকে এর আওতার বাইরে রাখা হবে। এমনকী স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বনধের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই মতই সকাল থেকে ঝালদায় বনধ পালন করা হচ্ছে। তার মধ্যেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সিবিআই তদন্ত
তপন কান্দু হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। তারপরের দিনই ঝালদায় পুরবোর্ড গঠন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তপন কান্দু মারা যাওয়ায় কংগ্রেসের কাউন্সিলর সংখ্যা ৫ থেকে কমে ৪ হয়ে গিয়েছে। সেই সুযোগের ব্যবহার করে ২ নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থন নিয়েই ঝালদায় পুরবোর্ড গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছিল পুরসভার সামনে। কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications