চাপের মুখে ‘প্রধান’দের নিয়ে সত্যি কথা তৃণমূল নেত্রীর, সাধুবাদ দিলেন বিজেপি বিধায়ক
চাপের মুখে ‘প্রধান’দের নিয়ে সত্যি কথা তৃণমূল নেত্রীর, সাধুবাদ দিলেন বিজেপি বিধায়ক
আবাস-বিক্ষোভ আর থামছেই না। কোথাও প্রধান ইস্তফা দিচ্ছেন, আর কোথাও ঘেরাও হচ্ছেন। আবার দলের তরফ থেকেও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ইস্তফার। বাংলায় আবাস যোজনার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তাল বাংলা। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ায় বিক্ষোভকারীদের মাঝে ঘেরাও হয়ে মেজাজ হারালেন প্রধান।

কাঠগড়ায় তুললেন নিজের দলের প্রধানদেরই
বাঁকুড়ার সোনামুখীর ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারিয়ে ক্ষান্ত হলেন না, তিনি কাঠগড়ায় তুললেন নিজের দলের প্রধানদেরই। তাতেই সাধুবাদ দিলেন সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। তিনি বলেন, চাপের মুখে সত্যি কথাটা বলে ফেলেছেন প্রধান সাহেবা। তাঁকে এ জন্য ধন্যবাদ।

৩৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিও এখন ভাইরাল
বিক্ষোভের মুখে পড়ে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নিজের দলকেই বিপাকে ফেললেন তৃণমূল নেত্রী তথা সোনামুখীর ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকার। নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচিত অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদেরও কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের ৩৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ভাইরাল'। যদিও এই ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি 'ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা'।

মেজাজ হারিয়ে ফাঁস করে দেন গোপন কথা
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের তালিকায় নাম বাদ যাওয়া অনেকেই সোনামুখী ব্লক অফিসে জড়ো হন। তাঁরা হাতের কাছে ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারকে পেয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আর ঠিক তখনই মেজাজ হারিয়ে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ফাঁস করে দেন গোপন কথা।

ভিডিওতে কী বলেন তৃণমূলের ওই প্রধান
ওই ভিডিও তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'শোনো, বেশি বড় বড় কথা বলবে না। অন্য পঞ্চায়েতের প্রধান সপ্তাহে দু'দিন যায়, জিজ্ঞাসা করো ডিহিপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান প্রতিদিন হাজিরা দেয় পঞ্চায়েত অফিসে, প্রতিদিন। আমি কি তোমার দুয়ারে দুয়ারে বসে থাকব নাকি! 'তোমরা মানুষ হলে এমন কথা বলতে না'!

বিজেপির হাতিয়ার করছে প্রধানের ওই স্বীকারোক্তি
আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের নেত্রী তথা ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারের এই সরল স্বীকারোক্তিতে বেজায় অস্বস্তিতে শাসক শিবির। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে দলের তরফে সংবাদ মাধ্যমের কাছে এখনও পর্যন্ত কেউ-ই মুখ খুলতে নারাজ। আর বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে হাতিয়ার করছে প্রধানের ওই স্বীকারোক্তিকে।

বিজেপি বিধায়কের ধন্যবাদ তৃণমূলের ওই প্রধানকে
সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এ প্রসঙ্গে বলেন, সত্যি কথাটা বলার জন্য প্রধানকে ধন্যবাদ। একইসঙ্গে ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'সপ্তাহে দু'দিন গিয়ে সাধারণ মানুষকে কী পরিষেবা দেন প্রধানরা?' তৃণমূল নেতারা যখন বলেন, বিজেপি বিধায়ক-সাংসদের দেখা পাওয়া যায় না, তখন ওই প্রধান সত্যি কথাটা বলে ফেলেছেন! এছাড়াও একজন জনপ্রতিনিধি তথা প্রধান বিডিও অফিসের সামনে মানুষের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা যথেষ্ট নিন্দনীয় বলেও তিনি দাবি করেন।












Click it and Unblock the Notifications