মাস্টারই মেরে নেবে! শিক্ষকদের প্রতি প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া বাম-বিজেপির
দিদি দূত কর্মসূচিতে গিয়ে নানা কথা শুনতে হচ্ছে। কোথায় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, আবার কোথাও মেজাজ হারাতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের।
ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী। ডিএ নিয়ে যৌথ মঞ্চের আন্দোলনের মধ্যেই প্রকাশ্যে রাজ্যের শিক্ষকদের কার্যত 'চোর' বললেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের 'অঘোষিত' নাম্বার ওয়ান, অরূপ চক্রবর্তী।

দিদির দূত অরূপের কাছে দাবি
ঘটনার সূত্রপাত অরূপ চক্রবর্তীর নির্বাচনী এলাকা তালডাংরা বিধানসভার সিমলাপালের বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমাইপুর গ্রামে। ওই গ্রামে 'দিদির সুরক্ষা কবচ' কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন 'দিদির দূত' বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও। অরূপ চক্রবর্তীকে হাতের কাছে পেয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা স্কুলের মিডডে মিলের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক অভিভাবিক বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, মিডডে মিল না দিয়ে বাচ্চাদের কিছু টাকা দিলে অনেক ভাল খাওয়া হত। এর উত্তরে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, টাকা দিলে সেই টাকা চুরি হয়ে যাবে! তখন কী করবেন?

শিক্ষকরা 'চোর'
তৃণমূল বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তীকে বলতে শোনা যায়... মাস্টারই মেরে নেবে। তিনি দাবি করেন, টিভিতে যা দেখানো হয় তা বানানো। বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী যখন প্রকাশ্যে রাজ্যের শিক্ষকদের 'চোর' বলছেন, ঠিক তখন তাঁর পাশের চেয়ারে বসে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা সিমলাপাল ব্লক তৃণমূল সভাপতি ফাল্গুনী সিংহবাবু। নিজের রাজনৈতিক সতীর্থের এই মন্তব্যে তিনিও যে অস্বস্তিতে পড়েন, তা তাঁর নড়াচড়া দেখেই সাধারণের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।

তীব্র প্রতিক্রিয়া বাম শিক্ষক সংগঠনের
তৃণমূল বিধায়কের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শিক্ষক মহলে। বাম সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক বিমান পাত্র বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তীর মন্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, যে যে ধরণের ভাবনায় বিশ্বাসী তারা সেই ধরণের কথাই বলেন। যাদের চুরি মজ্জাগত তারা সবাইকেই চোর ভাবেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা জানেন না মিডডে মিলে কত টাকা বরাদ্দ করা হয়! তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে বরাদ্দ মাথাপিছু ৫ টাকা ৪৫ পয়সা। অনেক সময় মিডডে মিল পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক স্কুলে সন্তানসম ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করে থাকেন। মানুষ জানেন কোথায় চুরি হচ্ছে, বলছেন ওই শিক্ষক নেতা।

ক্ষোভফ প্রকাশ বিজেপি বিধায়কের
তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শখা বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। তিনি আরও বলেন, উনি কোনও চিন্তা ভাবনা না করেই শিক্ষকদের চোর বলছেন। মিড ডে মিলে কত বরাদ্দ, আর একজন শিক্ষক কত বেতন পান তা ওনার জানা উচিত। গুরুকূলকে এই অবমাননাকর মন্তব্য করার জন্য তৃণমূল বিধায়ককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, দাবি করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications