Rail Coach: ৭৭ বছর ধরে নেই রেল পরিষেবা! সেই জঙ্গলমহলেই দাঁড়িয়ে আস্ত 'কোচ'
Rail Coach: স্বাধীনতার ৭৭ বছর পরেও রেল পরিষেবা (Indian Rail) থেকে বঞ্চিত বাঁকুড়ার জঙ্গল মহল। বেশ কয়েক বছর আগে ছাতনা -মুকুটমনিপুর রেলপথ নিয়ে এখানকার মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন সেই প্রকল্পও এখন বিশবাঁও জলে। এই অবস্থায় জঙ্গল মহলের অপু-দুর্গাদের রেল গাড়ির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে অভিনব উদ্যোগ প্রশাসনের।
সম্পূর্ণ রেল যোগাযোগ বিহীন রানীবাঁধের রুদড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নারাণপুর গ্রামে গেলেই দেখা মিলবে আস্ত একটা রেলের বগির (Rail Coach)। অবাক হচ্ছেন না! আদতে যা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা নবনির্মিত একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এখান থেকেই পরিষেবা পাবেন ওই এলাকার একাধিক গ্রামের ৫০ জন শিশু ও প্রসূতিমা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, নারায়ণপুর গ্রামে একটি চালু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থাকলেও এতো দিন নিজস্ব কোন ভবন ছিলনা। বিগত ১০ বছর ধরে গ্রামের এক জনের বাড়িতেই এই কেন্দ্রটি চলছিল। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আই.আর.ডি.এফ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা খরচ করে রেলের বগির আদলে অভিনব এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছে।
রয়েছে দু'টি দরজা, একটি হলঘর সঙ্গে রান্না ঘর ও শৌচাগার, তৈরি হয়েছে নতুন টিউবওয়েলও। সম্ভবত রাজ্যের মধ্যে প্রথম রেল লাইনে বসানো রেলের বগির আদলে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে আগ্রহের অন্ত নেই। প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসছেন রেলপথ বিহীন জঙ্গল মহলের গ্রামের রেল লাইনের উপরে কংক্রিটের এই রেল দেখার আগ্রহ নিয়ে।
অভিনব এই ভাবনায় খুশী নারাণপুর গ্রামের মানুষও। রেলের কামরার আদলে এই অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্র শিশু মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এমনটাই তারা মনে করছেন বলে জানিয়েছেন।
জঙ্গল মহলের বাসিন্দা তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন মাহাতো এ প্রসঙ্গে বলেন, অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্র থেকেই শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ নেয়, এখান থেকেই তাদের বর্ণপরিচয় হয়। আর সেকারণেই শিশুদের কাছে পড়াশুনাকে আরও বেশী আকর্ষণীয় করে তুলতেই রেলের বগির আদলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরীর ভাবনা বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications