বিজেপির কেন এত টাকা? চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন মমতা
নজরে বিধানসভা নির্বাচন। নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর সোমবার প্রথম জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাক টু ব্যাক সভা ঝালদা-পুরুলিয়াতে। কয়েকদিনের বিশ্রাম। ফের মাঠে নামলেন নেত্রী। আর মাঠে নেমেই দি
নজরে বিধানসভা নির্বাচন। নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর সোমবার প্রথম জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাক টু ব্যাক সভা ঝালদা-পুরুলিয়াতে। কয়েকদিনের বিশ্রাম। ফের মাঠে নামলেন নেত্রী। আর মাঠে নেমেই দিলেন খেলা হবে স্লোগান।
একই সঙ্গে ঝালদার সভা থেকে হুইল চেয়ারে বসেই বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরও লড়াই করার বার্তা দেন তিনি।

নোট বাতিল করেই টাকা!
ভোটের আগে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে টাকা দেওয়া হচ্ছে। মমতার দাবি, সেই টাকা নিয়ে নেবেন আর ভোটটা দেবেন তৃণমূলকে। তবে কীভাবে বিজেপি এত টাকা কোথায় পেল?" এরপর নিজেই তাঁর রহস্য ফাঁস করে বললেন, "নোটবন্দি করে এত টাকা হাতে পেয়েছে। সবে ৬ বছর ক্ষমতায় এসেছে, এর মধ্যেই ব্যাংক, কয়লা, এয়ার ইন্ডিয়া - সব বিক্রি করে দিচ্ছে!" আয়ের উৎস নিয়ে বিজেপিকে এভাবেই তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। এরপর আবার শ্লেষের সুরে মমতা বলেন, "বিজেপির ন্যাকা কান্নায় ভুলবেন না। ওদের বা আজসুকে ভোট দেবেন না

আমার গাড়ির দরজা চেপে দেওয়া হয়, ফের বললেন মমতা
সভা থেকে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়ে মানুষকে নমস্কার করছিলাম। তখন আমার গাড়ির দরজা এমনভাবে চেপে দেওয়া হয় বড় চোট পাই। আমাকে চিকিৎসকরাও বলেছিলেন ১৫ দিন একদম উঠতে পারবেন না। আমি বললাম, আপনারা চিকিৎসাটা করে দিন। বাকি আমি ঠিক হুইল চেয়ারে মানুষের কাছে পৌঁছে যাব। আমায় হাজরায় মাথা ফাটানো হয়, দু'হাত ভাঙা নয়, অনেক মার খেয়ে এখানে এসেছি। অনেকে ভেবেছিল মমতা ভোটের সময় বেরোতে পারবে না। ডুগডুগি বাজিয়ে দেব। কিন্তু আমি ভাঙি তবু মচকাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত শ্বাস থাকবে, কন্ঠ চলবে তা রোখার দুঃসাহস যেন কেউ না দেখায়। আমি রাস্তায় থেকেই লড়াই করি। আমি স্ট্রিট ফাইটার।

দলের কর্মীদের ভোকাল টনিক মমতার
ভোটের মুখে লাগাতার ভাঙন। একের পর এক নেতা বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছেন। পুরুলিয়াতে শক্তি বেড়েছে বিজেপির। সেখানে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল সুবিধা দিয়েছে বিজেপিকে। অনেক কর্মীই এখহ্ন ঘরে বসে গিয়েছে। ভোটের আগে সেই সমস্ত কর্মীদের ভোকাল টনিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, "আমি যদি ভাঙা পায়ে লড়তে পারি তোমরা কেন লড়বে না। যারা অভিমান করে বসে আছো বেরিয়ে এসো। যুদ্ধে অভিমান করে বসে থাকতে নেই। বিজেপিকে মুখের মতো জবাব দেবো।" রাজনৈতিক মহলের মত, মমতার এই বার্তাই এই শেষবেলায় রাশ টানতে পারে দলবদলের ট্রেন্ডিংয়ে।

উন্নয়নের খতিয়ান দেন মমতা
পুরুলিয়াতে দাঁড়িয়ে এদিন তাঁর সরকারের কাজের খতিয়ান দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,আমরা দু টাকা কেজি দরে চাল দি আর বিজেপি সরকার ৮০০ টাকা গ্যাসের দাম ধরে। এছাড়াও পুরুলিয়াতে এই সরকার কি কি কাজ করেছে সেই বিষয়ের একটি তালিকা সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি একসময়ে বাঘমুণ্ডিতে এসেছি। রাতের অন্ধকারে অযোধ্যায় গিয়েছি। মানুষ গলতে পারতেন না ভয়ে। সারা পৃথিবীকে আকর্ষণ করে অযোধ্যার সৌন্দর্য। এই এলাকায় উন্নয়নের চূড়ান্ত কাজ করেছি। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল করেছি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী করেছি। বীরসা মুণ্ডার নামে বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। বাউরি বাগদি কুর্মী বোর্ড তৈরি করেছি। তফশিলি অ্যাডভাইসারি কাউন্সিল তৈরি করেছি। বিধবাদের দেখার কেউ থাকে না। আমরা বিধবাদেরও এক হাজার টাকা করে দেবো। আগামী দিনে বাড়িতে বাড়িকে রেশন পৌঁছে দেবো। বিনে পয়সায় পাবেন। আগে রাস্তাঘাট ভাঙা ছিল। অযোধ্যার পথ এখন ঝাঁ চকচকে। বাঘমুণ্ডি ঝালদায় ওয়াটার প্ল্যান্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে জলের সমস্যা থাকবে না। এমনটাই বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications