বাংলা বনধের ডাক ১৮ টি আদিবাসী সংগঠনের, ব্যাহত হতে পারে রেল-সড়ক পরিষেবা
আগামী ৮ জুন বাংলা বনধের ডাক দিল প্রায় ১৮ টি আদিবাসী সংগঠনের যৌথমঞ্চ 'ইউনাইটেড আদিবাসী ফোরাম।' অ-আদিবাসী ক্ষত্রিয় কুড়মি সমাজকে রাজ্য সরকার অসাংবিধানিকভাবে জোরপূর্বক এস.টি তালিকাভূক্ত করার' অভিযোগ তুলে এহেন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আদিবাসী অঞ্চলে এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ন অঞ্চল জুড়ে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে আদিবাসী একতা মঞ্চের সম্পাদক দিলেশ্বর মাণ্ডি জানিয়েছেন, আগামী ৮ তারিখ রাজ্যে রেল, সড়ক সহ সমস্ত কিছু ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। যে ভাবে অ-আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়কে এস.টি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিআরআই রিপোর্ট বদলের অপচেষ্টা চলছে। তার প্রতিবাদেই এই বনধ বলেও জানিয়েছেন দিলেশ্বর।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার, জল জঙ্গল, জমির অধিকার, আদিবাসীদের আদিবাসীত্ব সত্বার হরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে 'দালাল' বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন আদিবাসী একতা মঞ্চের সম্পাদক দিলেশ্বর মাণ্ডি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও একহাত নেন তিনি। আর এর বিরুদ্ধেই আদিবাসী ভূমিজ, সাঁওতাল, মুণ্ডা, খেড়িয়া, শবর, মাহালি, ওঁরাং সহ সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে এই বনধের ডাক দিয়েছে বলে দাবি তাঁর।
শুধু তাই নয়, যতদিন না পর্যন্ত আদিবাসীদের সাংবাধিনিক অধিকার সুরক্ষিত করতে পারছেন ততদিন আন্দোলন চলবে বলেও ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন কুর্মি সমাজের বড় একটা অংশ।

এর আগে দীর্ঘদিন রাস্তা এবং রেল অবরোধ করে রাখেন তারা। কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। আর সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কুর্মি নেতা রাজেশ মাহাতো-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
আর এরপরেই ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনায়ত ক্ষুব্ধ কুর্মিরা। এই অবস্থায় আন্দোলন অন্য মাত্রা নিতে পারে বলেও একটা আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications