কালনার মন্দিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড! নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা তৃণমূলের পুরপ্রধানের
কালনার কৃষ্ণচন্দ্রজি মন্দিরে টোটো প্রবেশে বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল পুরপ্রধান! ইতিমধ্যেই ভাইরাল চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ভিডিও। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা। তবে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি জলের জার নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছে একটি টোটো।
সেইসময় ওই টোটোটিকে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেন মন্দিরে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী। আর ঠিক সেইসময়ই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন সেখানকার পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত। শুধু তাই নয়, ভিডিওটিতে ওই নিরাপত্তারক্ষীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করতে দেখা যায় তৃণমূলের পুরপ্রধানকে।

মন্দিরের শহর কালনা। ১০৮ শিব মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্রজি মন্দির রয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে এখানে ভিড় থাকে। জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে কালনার কৃষ্ণচন্দ্রজি মন্দিরে ভক্তদের ভোগপ্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছিল। সেইসময় প্রয়োজনীয় জল নিয়ে যাচ্ছিলেন সেখানকার পুরপ্রধান। আর ঠিক তখনই তাঁকে বাধা দেয় কৃষ্ণচন্দ্রজি মন্দিরে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী। এরপরই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন পুরপ্রধান।
এমনকী নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের পুরপ্রধান স্বয়ং। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতে ওয়ান ইন্ডয়ার পক্ষ থেকে কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম। যাঁরা জনপ্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখেই কাজ করা উচিত। এই ধরনের ঘটনা না ঘটানোই উচিত। দল এইরকম ঘটনাকে কখনওই প্রশ্রয় দেয় না। এইসমস্ত ঘটনা যাঁরা ঘটান তাঁদের পাশেও দল থাকে না। এই ঘটনার সঙ্গে দল কোনওভাবেই যুক্ত নয়'।
কালনার এই ঘটনায় সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। মনোরঞ্জন সাহা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানান, 'কালনার যে মন্দিরে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত। ফলে নিরাপত্তারক্ষীকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া যা দায়িত্ব দেবে সেটাই তাঁকে পালন করতে হবে। ওই মন্দিরে টোটো প্রবেশ নিষেধ। তাই কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী বাধা দিয়েছেন। এটা তাঁর কাজ। ফলে টোটো প্রবেশ করানোর আগে সেখানকার আধিকারিকের সঙ্গে কথা বললে হয়তো সমস্যাটা মিটে যেত। এইরকমভাবে নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া এবং গালিগালাজ করা একেবারেই ঠিক হয়নি'।
তবে, এ বিষয়ে মুখ খোলেননি ওই এলাকার পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত। ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার দায় যে তৃণমূলের নয় সে কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। কিন্তু এই ঘটনার পর পুরপ্রধান সম্পর্কে দল কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications