কালনা পুরসভা তৃণমূলের গলার কাঁটা! ঘাটের ইজারায় কয়েক কোটির দুর্নীতির অভিযোগ, মামলা, নিশানায় চেয়ারম্যান

Kalna Municipality: ফের বিতর্কে কালনা পুরসভা। মামলা দায়ের কলকাতা হাইকোর্টে। কালনা খেয়াঘাটের ইজারা দেওয়ার ই-নিলাম টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে তৃণমূলের অন্দরেও। অভিযোগ উঠছে, বিতর্কিত পুর চেয়ারম্যানের জন্যই বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে কালনা পুরসভার।

Kalna Municipality

পুর পরিষেবা শিকেয়, সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে শহরে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর ও হুমকি, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডোনেশন আদায়, পুকুর ভরাট-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তের বিরুদ্ধে। এবারেও অভিযোগের তির তাঁর দিকেই।

ফেরিঘাট নিয়ে কালনা পুরসভার সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বুধবার বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় ইজারা পেয়েছেন কালনার বুদ্ধি পাল। জানা যাচ্ছে, তিনি চেয়ারম্যান-ঘনিষ্ঠ। বৃহস্পতিবার সকালে কালনা পুরসভায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনি চিঠি নিয়ে হাজির হন হুগলি জেলার চাঁপদানি এলাকার বাসিন্দা রাজেন্দ্র কুমার সাউ।

তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ তারিখ ই-নিলামে অংশগ্রহণের জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্নেস্ট মানি কালনা পুরসভার অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন তিনি। গত ২৪ অগাস্ট তাঁকে জানানো হয় তিনি নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। তাঁর টাকা জমা পড়েনি। যদিও টাকা জমার রসিদ-সহ যাবতীয় নথি রয়েছে অভিযোগকারীর। তিনি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এমনকী কালনা পুরসভায় এ বিষয়টি জানাতে গেলে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। হুগলি জেলার বলাগড়-সহ খান চারেক খেয়াঘাট চালানো রাজেন্দ্র কুমার সাউয়ের দাবি, সরকারি নিয়মে ইজারার দায়িত্বপ্রাপ্তর জলধারা থাকা বাধ্যতামূলক। সেটাও কালনায় মানা হয়নি। আগেও তিনি টেন্ডারে অংশ নিয়ে টাকা জমা দিলেও বারবার কোনও কারণ না দেখিয়েই তাঁর আবেদন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, ই-নিলামে সাতজন অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু চারজনকে যেভাবে বাতিল করা হয়েছে তাতেই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের ইঙ্গিত মিলছে বলে অভিযোগ। পুরসভা সূত্রের খবর, আগে বার্ষিক ৫৪ লক্ষ টাকা দর ছিল ঘাটের ইজারার। বর্তমান পুরবোর্ড ন্যূনতম ১ কোটি টাকা দর হেঁকে টেন্ডার ছাড়ে। প্রথম ই-নিলামে দর উঠেছিল সাড়ে তিন কোটি টাকা।

যদিও সেই টাকা পুরসভার তহবিলে জমা না পড়ায় সেই ই-নিলাম বাতিল হয়। পরে নানা কারণ দেখিয়ে আরও দুটি ই-নিলাম বাতিল হয়। এবার দর উঠল ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। এখানেই প্রশ্ন, যেখানে সাড়ে তিন কোটি টাকা দর উঠেছিল তা বাতিল হলো, এখন এত কম টাকায় ইজারা দেওয়া হলো! বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। উল্লেখ্য, কালনা থেকে শান্তিপুর যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এই খেয়া ঘাট। সাধারণ যাত্রীরা যেমন নদী পারাপার করেন তেমনই প্রতিদিনই ভোর থেকে রাত অবধি চলে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার।

পুরসভা সূত্রে দাবি, চারজন বাতিল হওয়ার পর যে তিনজন অংশ নেন তাঁদের মধ্যে সব থেকে বেশি দর দেন বুদ্ধি। উপ প্রধান তপন পোড়েলের দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায়ই নিয়ম মেনে হয়েছে। তাতে কারও সমস্যা থাকলে তিনি আইনের দ্বারস্থ হতেই পারেন।

তবে যেভাবে বারবার চেয়ারম্যানের জন্যই পুরসভাকে একের পর এক বিতর্কে জড়াতে হচ্ছে তাতে অসন্তোষ তৃণমূলের অন্দরেও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করার পরেও নিজেকে বদলাননি আনন্দ। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ প্রতিফলিত হয়েছে লোকসভা নির্বাচনেও। কালনায় ব্যাপক লিড পেয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে দল যাতে কালনা পুরসভার দিকে নজর দেয় তেমনটাই চাইছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।

এমনকী সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরও চেয়ারম্যানের নানা অন্য়ায় মেনে নিতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলরের কথায়, এখন আরজি কর কাণ্ড নিয়ে চারদিক তোলপাড়। চেয়ারম্যান হয়তো ভেবেছিলেন, ঘাটের ইজারা নিয়ে দুর্নীতির কথা সংবাদমাধ্যমে আসবে না। কিন্তু তিনি মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ। দল এবার পরিস্থিতি সামলাতে উদ্যোগী না হলে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+