নোংরা ঘরে অসুস্থ বাবাকে ফেলে রেখেছে তিন ছেলে? কোথায় ঘটেছে এই অমানবিক ঘটনা?
অমানবিকতার চরম ঘটনা ধরা পড়ল দুর্গাপুরে। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা ফাঁকা ঘরে পড়ে আছেন চৌকির উপর। নীচে সবুজ প্লাস্টিক বিছানো আছে। হাত - পা বাঁধা। পাশ ফেরার মতো শারীরিক ক্ষমতাও নেই তার। তিন কর্মঠ, ভালো চাকরি করা ছেলে আছে। কিন্তু বৃদ্ধ অসুস্থ বাবাকে নিজেদের বাড়ি রেখে চিকিৎসা করাতে তারা পারেনি!
তিন ছেলের একজন ইস্পাত কারখানার কর্মী। বাকি দুজন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। বৃদ্ধ অসুস্থ বাবাকে অনাদরে রেখেছে গুণধর ছেলেরা। দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বিজন টাউনশিপের জয়দেব এভিনিউ এলাকায় এই নিন্দনীয় ছবি ধরা পড়ল। যদিও প্রতিবেশীদের অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে আগেই অবগত ছিলেন।

আজ শুক্রবার সকালে নগর নিগমের স্বাস্থ্য কর্মীরা ডেঙ্গির সার্ভে করতে গিয়ে এই ঘটনা দেখেন। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রীতিমতো অসুস্থ ওই ব্যক্তিকে পলিথিনের উপর শুইয়ে রাখা হয়েছে।পরিত্যক্ত আবাসনে ভাঙা খাটে পাশ ফিরে তিনি শুইয়ে রয়েছেন। শরীরে কোনও জামাকাপড় নেই৷ কেবল একটি ডায়াপার পরানো আছে। ঘর জুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের নাম মাগা রাম ঘোষ। তিনি দুর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানার কর্মী ছিলেন। বাবাকে এভাবে ফেলে রেখে তিন ছেলে বাস করে শহরের অন্য জায়গায়। অসুস্থ বাবার জায়গা হয়নি কারো বাড়িতে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় আশপাশের এলাকায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর মনি দাশগুপ্ত যান সেখানে। পাড়া পড়শির কাছে অবগত হন বিষয় সম্পর্কে। এরপর দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। ছেলে দয়াময় ঘোষকে ফোন করা হয়। রীতিমতো ধমক দেন মনি দাশগুপ্ত।
দয়াময় ঘোষ জানিয়েছেন, বাবাকে কিছুদিন আগেই ইস্পাত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। প্রতিদিন তিনি গিয়ে দেখাশোনা করেন। খাট থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এই অমানবিকতার বিষয়ে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। কীভাবে বাবাকে এভাবে ছেলেরা অযত্নে রাখতে পারে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications