Lok Sabha Election 2024: বর্ধমান-দুর্গাপুরে তৃণমূল প্রার্থী হতে পারেন কীর্তি আজাদ, মিলল বিরাট ইঙ্গিত
Lok Sabha Election 2024: বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন দখলে এবার বড় চমক দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদকে প্রার্থী করে।
কীর্তি গতকালই দুর্গাপুরে পৌঁছেছেন। মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। বৈঠক করেছেন জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে। আজ তিনি হাজির ছিলেন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের সঙ্গে, ছিলেন নরেন্দ্রনাথও।

কীর্তি আজাদ তিনবারের বিজেপি সাংসদ। ১৯৯৩ সাল থেকে দিল্লির বিধায়ক নির্বাচিত হন গোল মার্কেট কেন্দ্র থেকে। ১৯৯৯ ও ২০০৯ সালে সাংসদ হন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিহারের দ্বারভাঙা থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। যদিও দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হন অরুণ জেটলির বিরুদ্ধে।
জেটলির খুল্লমখুল্লা সমালোচনা করায় ২০১৫ সালে তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল বিজেপি। এরপর ২০১৯ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধানবাদ থেকে কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালেও ৪.৮ লক্ষ ভোটে হেরে যান বিজেপির পশুপতিনাথ সিংয়ের কাছে।
২০২২ সালে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে কীর্তি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে দেখাও গিয়েছে। শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গে তিনি হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চেও। সূত্রের খবর, সেই সময়ই কীর্তিকে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে প্রার্থী করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মমতা।
আজ দুর্গাপুরে একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আসরে কীর্তি হাজির ছিলেন। ১০ মার্চ ব্রিগেডে জনগর্জন সভার প্রস্তুতি সভায় আজ দুর্গাপুরে শত্রুঘ্ন ও কীর্তি থাকবেন বলে খবর। কীর্তিকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দলনেত্রী ঠিক করবেন। সৈনিক হিসেবে দলের সব দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।
যেহেতু তিনি সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি তাতেই বড় ইঙ্গিত মিলছে। পাশাপাশি দলের জেলা ও ব্লক স্তরের নেতাদের সঙ্গে কীর্তির যেভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী প্রদীপ তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কীর্তি বলেন, বাংলা থেকেই ক্রান্তি আনবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় যা হয়, তা অনেক পরে দেশে হয়।
মমতার উচ্ছ্বসিক প্রশংসা করে কীর্তি বলেন, আমার বাবা ভাগবৎ যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পাশাপাশি সাংসদও হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৪ সালে সাংসদ হন, রাজীব গান্ধী তখন প্রধানমন্ত্রী। বাবা তখনই বলেছিলেন, এই মেয়ের মধ্যে আগুন আছে।
এত বছরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না হওয়া, ছোট ঘরে থাকার কথা উঠে এসেছে কীর্তির বক্তব্যে। তিনি বলেন, ওঁর সঙ্গে অনেক দিনের পরিচয়। এতটুকু বদলাননি। মমতা এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলেও আশাবাদী কীর্তি।
এদিনও বিজেপিকে নিশানা করেন কীর্তি। বলেন, নরেন্দ্র মোদী পরিবারবাদের কথা বলেন। অথচ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র বিসিসিআইয়ের সচিব। আশা করি, ক্রিকেটে ভ্রষ্টাচার হবে না বা বোর্ড রাজনীতিমুক্ত থাকবে। নরেন্দ্র মোদীর গ্যারান্টিকে পাত্তা না দিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার একঝাঁক উদাহরণ তুলে ধরেন কীর্তি।
মোদী বলেছেন, বাংলার বিয়াল্লিশ আসনের বিয়াল্লিশটিই জিততে হবে। কীর্তি বলেন, উনি বলেছিলেন কালো টাকা ফেরাবেন, ১৫ লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্টে দেবেন, লক্ষ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলি কি হয়েছে? গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেলেও স্মৃতি ইরানিরা চুপ। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে হাস্যকর যুক্তি দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে ২০০৯ সালে জিতেছিলেন সিপিআইএমের সইদুল হক। ২০১৪ সালে এখান থেকে সাংসদ হন তৃণমূলের মমতাজ সংঘমিতা। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সংঘমিতাকে ২৪৩৯ ভোটে হারিয়ে সাংসদ হন বিজেপির এসএস আলুওয়ালিয়া।
এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বর্ধমান-দুর্গাপুরের নাম রাখেনি বিজেপি। ফলে আলুওয়ালিয়া টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। এই আবহে তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যকে দিয়েই খেলা ঘোরাতে চান মমতা। জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।












Click it and Unblock the Notifications