শর্মিলাকে নিয়ে গান বাঁধলেন অসীম, মমতাকে 'মা' বলে সম্বোধন বর্ধমান পূর্বের বিজেপি প্রার্থীর
Lok Sabha Election 2024: কবিগান, কীর্তনে জনপ্রিয় অসীম সরকারকে বর্ধমান পূর্ব আসনে দাঁড় করিয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। তিনি হরিণঘাটার বিধায়ক।
কবিয়াল-বিধায়ক গতকাল প্রার্থী হওয়ার পর আজই পৌঁছে যান কালনায়। ভবা পাগলার বাসভবনে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে শুরু করলেন প্রচার।

এক সময়ের লাল দুর্গ এই আসনটি (পূর্বতন কাটোয়া লোকসভা কেন্দ্র) ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দু-বারের সাংসদ সুনীল কুমার মণ্ডলকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শর্মিলা সরকারকে। সিপিআইএম প্রার্থী কালনারই নীরব খাঁ।
কবিয়াল-প্রার্থী অসীম সরকার ইতিমধ্যেই গানের মাধ্যমেই খোঁচা দিলেন তৃণমূল প্রার্থীকে। কালনায় তিনি গেয়ে উঠলেন, "ও শর্মিলা সরকার, তুমি নাকি মনোরোগের ডাক্তার/ তুমি অদৃশ্য মন দেখতে পারো, তুমি অদৃশ্য মন সারিয়ে তোলো/ কিন্তু চোর দেখার চোখ নাই তোমার...।"
অসীম সরকারের কথায়, আমার আজ যা কিছু সব ঠাকুর ভবা পাগলার জন্যই। কালনার এই আশ্রমে আমি পাগলের সান্নিধ্য পেয়েছি। এখানে থেকেছি, বাজার করেছি। এই জেলার নানা প্রান্ত আমার চেনা। আমি এখন যেখানে থাকি তার চেয়ে বেশি এখানে মানুষ আমাকে চেনেন।
মতুয়াদের জন্য নাগরিকত্বের দাবি নিয়ে যাঁরা সরব ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম অসীম সরকার। মতুয়া ভোট টানতে এবং শিল্পী অসীমের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এই আসন দখলে নিতে মরিয়া বিজেপি। অসীম সরকার বললেন, আমি কিছুই না। আমাদের মুখ নরেন্দ্র মোদী, প্রতীক পদ্মফুল।
কালনায় ভবা পাগলার বাড়ির পাশাপাশি ১০৮ শিব মন্দির ও সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও যান অসীম সরকার। সিএএ ইস্যু নিয়ে বললেন, এই আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। কোনও হিন্দুরও নাগরিকত্ব যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকে এই বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা কথা বলে চলেছেন। মিথ্যা ছাড়া তিনি রাজনীতি করতে পারেন না।
এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা বলে সম্বোধন করেন অসীম। বলেন, মা সত্যের পথে আসুন। দুর্নীতি মুক্ত করুন। ক-দিনই আর বাঁচবেন! আমি কাল নাও বাঁচতে পারি, আপনিও নাও থাকতে পারেন। কিন্তু সততার দাগ ফেলে যান। এখন কেন আপনি সততার প্রতীক কথাটা লিখতে পারছেন না? অসীমের সঙ্গে এদিন বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায় থাকলেও ছিলেন না প্রাক্তন বিধায়ক তথা ২০২১ সালে কালনায় বিজেপির প্রার্থী বিশ্বজিৎ কুণ্ডু।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস বর্ধমান পূর্ব আসনে ৪৪.৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী পরেশচন্দ্র দাস পেয়েছিলেন ৩৮.৩২ শতাংশ ভোট। সিপিআইএম ভোট পেয়েছিল ১২.২২ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জিতেছিলেন ৮৯,৩১১ ভোটে।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল, সিপিআইএম ও বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৪৩.৫০ শতাংশ, ৩৪.৮৩ শতাংশ ও ১২.৯৩ শতাংশ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সিপিআইএমের ভোটের অনেকটাই ২০১৯ সালে গিয়েছিল বিজেপির ঝুলিতে। ২০১৪ সালে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫.২১ শতাংশ, ২০১৯ সালে তা হয় ২.৬৭ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications