বর্ধমানে বিডিও অফিসেই আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠান, তৃণমূল নেত্রীর পা ছুঁয়ে বিতর্কে বিডিও
টেবিলে থালাভর্তি করে সাজানো খাবার দাবার। এলাহি আয়োজন একেবারে। খাবার দাবার আবার ফুলের মালা দিয়ে সাজানো। টেবিলের ওপারে এক যুবকের গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি।
তার পরেই সেই যুবকের কপালে ফুল-চন্দন দিয়ে আশীর্বাদ করলেন এক মহিলা। তিনি আর কেউ নন। তিনি বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন তথা বর্ধমান এক ব্লক তৃণমূলের সভাপতি কাকুলি তা গুপ্ত।

মাথা ঝুঁকিয়ে তাঁকে প্রণামও করলেন ওই যুবক। পাশ থেকে বাজল শাঁখ। তার পরে প্রসন্ন মুখে খেতে বসলেন ওই যুবক।
বহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিও। ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে, আইবুড়ো ভাতের আয়োজন চলছে। যিনি খেতে বসছেন, তিনিই পাত্র।
How wonderful !
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 4, 2024
Pre wedding festivities of Burdwan-I BDO, organized by the Block TMC Leadership within the Panchayat Samiti Office.
The Officer could be seen touching the feet of the TMC Leader, seeking blessings.
This incident of the Purba Bardhaman district isn't an exception,… pic.twitter.com/rnpyliiy3X
এত অবধি সব ঠিকই ছিল। কিন্তু ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, পিছনে হাসিমুখ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। আর এই ছবি দেখেই চর্চা শুরু হয়েছে। হবে নাই বা কেন। এ তো আর বাড়িতে আয়োজিত সাধারণ আইবুড়ো ভাত নয়! এই আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি অফিসের মধ্যে! পাত্রও সাধারণ কেউ নন, তিনি বর্ধমান-১ ব্লকের বিডিও!
বিডিও রজনীশ যাদবের বিয়ে সামনে। সেজন্য অফিসেই আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। কাঁসার থালা, বাসনে খাবার দেওয়া হয়েছিল। ভাত, ভাজা,শুক্তো, মাংস, মাছ, চাটনি, মিষ্টি সবই ছিল খাবারের মেনুতে। বিডিও একজন নেতার পা ছুঁয়ে অফিসের মধ্যে প্রণাম কেন করবেন? তাই নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছে৷
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও কটাক্ষ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়ে তিনি মন্তব্যও করেছেন।ফলে আরও একবার শাসক - বিরোধী চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে এই ঘটনায়।
শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, চমৎকার ! পঞ্চায়েত সমিতি অফিসের মধ্যে ব্লক টিএমসি লিডারশিপের মাধ্যমে বর্ধমান ১ বিডিওর আইবুড়ো বিয়ের অনুষ্ঠান। অফিসারকে টিএমসি নেতার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ চাইতে দেখা যায়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এই ঘটনাটি একটি ব্যতিক্রম নয়। এটি আদর্শ হয়ে উঠেছে। আশ্চর্যের কিছু নেই শাসক দল এবং প্রশাসনের মধ্যে একটি বিভাজন রেখা অস্পষ্ট ছিলই। এখন সেটা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications