কেতুগ্রামের ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী, স্ত্রীর কবজি কাটতে ভাড়া করা হয়েছিল গুণ্ডা
কেতুগ্রামের ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী, স্ত্রীর কবজি কাটতে ভাড়া করা হয়েছিল গুণ্ডা
অবশেষে পুলিশের জালে কেতুগ্রামের ঘটনার মূল অভিযু্ক্ত। কবজি কাটার ঘটনায় তরুণীর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। স্ত্রীর কবজি কাটতে ভাড়াটে গুণ্ডা নিয়োগ করেছিলেন স্বামী শের মহম্মদ। গতকাল রাতেই তরুণীর শাশুড়িকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তঁাদের আজ আদালতে পেশ করা হবে।

কেতুগ্রামের ঘটনায় রেণুর স্বামী শের মহম্মদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পূর্ব বর্ধমান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সে। তিনদিন পর গ্রেফতার করে পুিলশ। স্ত্রী সরকারি চাকরি পাওয়ায় তাঁর কবজি কেটে দিয়েছিলেন স্বামী শের মহম্মদ। আর এই কাজের জন্য গুণ্ডা ভাড়া করেছিল সে। সোমবার রাতেই আবার রেণুর শ্বশুর এবং শাশুড়িকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের সকলকেই আজ আদালতে পেশ করা হবে।

রেণুর শ্বশুর এবং শাশুড়িকে জেরা করেই শের মহম্মদের সন্ধন মেলে। শের মহম্মদকে ইতিমধ্যেই জেরা করতে শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে স্ত্রী যাতে সরকারি চাকরি না করতে পারে তার জন্য ভাড়া করা লোক এনে হাত কেটে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল সে। খুন করা উদ্দেশ্য ছিল না তাঁর। সাংঘাতিক ভাবে জখম করাই ছিল পরিকল্পনা। একইসঙ্গে জেরায় শেখের দাবি, সরকারি চাকরির নেশা ছেড়ে রেণু যাতে সংসারে মন দেয় তাই হাত কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা।
রেণু খাতুনের শ্বশুর সিরাজ শেখ ও শাশুড়ি মেহেরনিকা বিবিকে সোমবার রাতে কেতুগ্রামের চাকটা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাতে রেণু ঘুিময়ে পড়ার পরেই শের মহম্মদ ও তার দুই বন্ধু মিলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাঁর ডান হাতের কব্জি কেটে নেয়। ঘটনাটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রেণু খাতুনের চিৎকার যাতে কারোর কানে না পৌঁছয়, সেজন্য শের মহম্মদ তাঁর মুখে বালিশ চেপে ধরেছিল। তারপরই বাড়ি ছেড়ে পালায় শের মহম্মদ।
পরে রেণুর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরাই তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে রেনুকে।
তবে হার মানতে নারাজ রেনু। হাসপাতােলই বা হাতে লেখার অভ্যাস শুরু করে দিয়েছে সে। কিন্তু নার্সিং স্টাফের যে চাকরি পেয়েছিলেন রেনু খাতুন সেটা তিনি কতটা করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রেনুর হাত কাটা যাওয়ায় সেই কাজে কতটা তিনি সক্ষম হবেন সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেনু যদিও নিজের কাজ করার জেদ ধরে রেখেছে। হাসপাতালের বেডে বসেই বা হাতে সে লেখা শুরু করে দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications