এই গ্রামে প্রথমবার দুর্গাপুজো, হিন্দু- মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের ভাইরা হাত লাগিয়েছেন
এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু আর মুসলমান। কাজি নজরুল ইসলামের সেই ভাবনা চির জাগ্রত। ধর্মের হানাহানি মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু এখানে এক মেলবন্ধনের ছবি। সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লো কাঁকসার আনন্দপুর গ্রাম।
দুর্গাপুজোর বোধন ষষ্ঠীতে। রামের সঙ্গে রহিমরা একসঙ্গে কাজে হাত লাগিয়েছে। পুজোর জোগানে রয়েছেন প্রতিমা, ফতেমারা। হবে নাই না কেন? এই প্রথমবার যে গ্রামে পুজো। বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব। সেই উৎসবে সামিল হয়েছেন হিন্দু, মুসলমান সকলেই।

গ্রামের মানুষের আবেদন ছিল এই বছর পুজো হবে। কাঁকসার আনন্দপুরে দুই সম্প্রদায় মিলে মহা ধুমধামে দুর্গাপুজোর আয়োজন করল এই বছর। পুজোর সূচনা করলেন কাঁকসা থানার আইসি পার্থ ঘোষ ও কাঁকসার এসিপি সুমন কুমার জয়সওয়াল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাঁকসা ব্লকের তৃণমূলের যুব সভাপতি কুলদীপ সরকার, আমলা জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নাসিম আলি মির সহ অন্যান্যরা। কুলদীপ সরকার জানিয়েছেন, গ্রামে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এ এক অন্য আনন্দ।
আমলা জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আনন্দপুর গ্রামে হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের বসবাস। সেই গ্রামে এতদিন কোনও পুজো হত না। হিন্দু ধর্মের ছেলেমেয়েদের অন্য গ্রামে যেতে হত। কেউ কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যেতেন। বাসিন্দারা স্থির করেন, এই বছর তাদের গ্রামে পুজোর আয়োজন হবে। তাহলে গ্রামের মানুষকে আর বাইরে যেতে হবে না।
হিন্দু ভাইদের সেই পরিকল্পনা শুনে এগিয়ে আসেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাও। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে অর্থ সংগ্রহ করে। তাতেই দেবী দুর্গার মহা আয়োজন। কাঁকসা প্রশাসনও এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে। তারাও খুশি পুজো হওয়ায়।
দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একই সঙ্গে ফিতে কেটে পুজোর উদ্বোধন করে। কাঁকসায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একে অপরের উৎসবে অনুষ্ঠানে যোগদান করে। এটাই কাঁকসার ঐতিহ্। এখানে সম্প্রীতির মেলবন্ধন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications