শ্মশান সংস্কারেও মমতার অনুপ্রেরণা! পুর চেয়ারম্য়ানের পোস্টে অস্বস্তিতে তৃণমূল, খোঁচা বিজেপির

Crematorium Renovation: আরজি কর কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রবল চাপ বিরোধীদের। আজ বিধানসভাতেও উঠেছে তাঁর পদত্যাগের দাবি।

এই আবহে দলনেত্রীকে খুশি রাখতে গিয়ে দলেরই অস্বস্তি বাড়ালেন তৃণমূলের পুর প্রধান। ঘটনাটি ঘটেছে কালনায়।

Crematorium Renovation

দীর্ঘদিন ধরে কালনায় পুর চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তের কাজকর্ম নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ জন্মেছে। পুর পরিষেবা তলানিতে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর, পুরসভায় বেআইনিভাবে ডোনেশন আদায়, খেয়াঘাটের টেন্ডার দুর্নীতি, পুকুর বোজানো-সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

আনন্দ দত্তের উপর ক্ষুব্ধ কালনা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর। তাঁর দেখা মেলাই ভার! সংবাদমাধ্যমের ফোন ধরেন না। কালনার বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা বা হুমকি দেওয়াটা তাঁর কাছে জলভাত। দলের উপর অবধি আনন্দ সম্পর্কে নানা তথ্য পৌঁছে দিয়েও কাজের কাজ হচ্ছে না। আর তাতে পুর পরিষেবা নিয়ে দিনকেদিন অভিযোগ বাড়ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালনায় দলীয় বৈঠকে বলে গিয়েছিলেন, পুর পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ তিনি জানেন। লোকসভা ভোটে দলকে লিড দিতে না পারলে তিনি প্রয়োজনে বোর্ড ভেঙে দেবেন। বিধানসভা ভোটের তুলনায় লোকসভা ভোটে আরও বেশি ব্যবধানে বিজেপির চেয়ে পিছিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। তাতেও টলেনি আনন্দর চেয়ার।

কাল কালনায় শবদাহ ঘাট সংস্কারের পর উন্মুক্ত করা হবে। এবার থেকে সেখানে থাকছে দুটি চুল্লি। সেই সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এই কাজ হয়েছে। আর্থিক সহযোগিতা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

আনন্দ দত্ত ফেসবুকে সেই চিঠি পোস্ট করতেই তা হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, শৌচাগার বা শ্মশান উদ্বোধনেও যদি মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা নিতে হয়, তাহলে জনপ্রতিনিধিদের কোন দায়িত্বটা রয়েছে?

কালনায় তৃণমূলের একাংশের দাবি, ওই শ্মশান তৈরি হয়েছে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। কালনায় তৃণমূলের বিগত চেয়ারম্যানদের আমলেও সেখানে সংস্কার হয়েছে। তবে তাতে এত ঢাক-ঢোল পেটাতে হয়নি। কিছু টিন বদলে, লাইট লাগিয়ে যে সংস্কার হয়েছে তার প্রচার করে আনন্দ বিতর্কের মধ্যেই অক্সিজেন নিতে চাইছেন। কিন্তু শ্মশানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণার কথা না লিখতেই পারতেন।

বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুভাষ পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা রাজ্যকে শ্মশানে পরিণত করেছেন। এখন তিনি শ্মশান উদ্বোধন করে বৈতরণী পার হতে চাইছেন। তাঁর কোনও লাভ হবে না। আরজি কর কাণ্ডে যে ঘটনা ঘটেছে, তারপর তথ্য-প্রমাণ লোপাট হয়েছে, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী ধিক্কৃত হচ্ছেন তাতে তাঁর ন্যূনতম সম্মান থাকলে পদত্যাগ করে গঙ্গায় স্নান করতেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+