বিজেপির জেলা সহসভাপতির পদত্যাগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বেনজির অভিযোগ
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভাঙনের মুখে বিজেপি। শুধু পদ ছেড়েই ক্ষান্ত নন বিজেপির জেলা সহ সভাপতি, দল ছাড়ারও ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন তিনি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের বিরুদ্ধে বেনজির অভিযোগ করে বিজেপি ছাড়ার বার্তা দিলেন বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি শ্যামল রায়।

বেনজির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ
বিজেপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেই তিনি পদ ছাড়েন। বেনজির অভিযোগ তুলে জেলা সহ সভাপতি শ্যামল রায় বলেন, দলে সম্মান বা গুরুত্ব কিছুই পাচ্ছেন না। তা তিনি দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। আর লিখিতভাবে সেই অভিযোগ সকরেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দল ছাড়তে চান বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

পদত্যাগের পরই দল ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ
পদ ও দল ছাড়ার কথা বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়ে শ্যামল রায় বলেন, সিপিএমকে হটাতে বিজেপিতে এসেছিলান। এখন সেই সিপিএমের নেতারাই জার্সি পাল্টে বিজেপির নেতা হয়ে উঠেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিজেপিতে আসা, তাঁরাই এখন বিজেপির নেতা। তাঁরা সবাই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে রয়েছেন।

যাঁদেরকে নেতার আসনে বসানো হয়েছে...
পদত্যাগী বিজেপি নেতা বলেন, যেভাবে দল দলছে, যাঁদেরকে নেতার আসনে বসানো হয়েছে, তাঁদের দিয়ে কখনো দলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে পারে না। যখন বিজেপিতে এসেছিলাম, তখন মাত্র ৪ শতাংশ ভোট ছিল। এখন বিজেপির ভোট ৩৮ শতাংশ। এই অবস্থায় দলের কাছে আমরা ব্রাত্য।

বিজেপিতে ভাঙন আসন্ন, দাবি দলের নেতারই
বিজেপি নেতা শ্যামল রায়ের অভিযোগ, দলের সভাপতি অযোগ্য। তিনি দল চালাতে পারছেন না। তাই এই পার্টিতে থাকার প্রয়োজন বোধ করছি না। বিজেপির বিরুদ্ধে দলেরই সহ সভাপতির এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় বিজেপিতে ভাঙন আসন্ন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোটের আগেই পদত্যাগ, মতবিরোধী প্রকাশ্যে
তৃণমূল অভিযোগ করেছে, বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল সামনে চলে এসেছে। তার ফলেই এই পদত্যাগ জেলার সহ সভাপতির। যদিও বিজেপি এই পদত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, ক্ষোভ অভিমান থাকতেই পারে। আলোচনার মাধ্যমেই তা মেটানো সম্ভব। ভোটের আগেই পদত্যাগ ইস্যুতে শুরু হল মতবিরোধ।

সিপিএম থেকে আসা নেতারাই বিজেপি চালাচ্ছেন
জেলা সভাপতিকে চিঠি দিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শ্যামল রায় ক্ষোভের কথা জানান। তিনি বলেন, সিপিএম থেকে আসা নেতারাই দল চালাচ্ছেন। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দলকে এই জায়গায় নিয়ে এলাম। বিজেপি এখানে পসার বৃদ্ধি করতেই সেইসব নেতার ছড়ি ঘোরাচ্ছেন।

এই দলে না থাকাই শ্রেয়, বোমা ফাটালেন নেতা
শ্যামল রায় বলেন, ২০১৯-এ প্রাণপাত করে আমরা সাংসদকে জিতিয়েছি। সেই সাংসদকেও এলাকার মানুষ পায় না। তাঁর কোনো গতিবিধি দেখা যায় না। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কাজ চোকে পড়েনি। আর এখন যে কমিটি রয়েছে, তাতে কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। তাই এই দলে না থাকাই শ্রেয় বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications