নিরঙ্কুশ জয়ের পরেও তৃণমূলে কাটোয়ার 'কাঁটা'! হারের পর দলের অভ্যন্তরে চক্রান্তের অভিযোগে সরব অনুব্রত অনুগামী
বীরভূমের মতোই পূর্ব বর্ধমানের (east burdwan) সবকটি পুরসভাতেই (Municipal Election) তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়। তারই মধ্যে কাটোয়ার (Katwa) কাটা বিঁধেছে ঘাসফুলে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভোটের দিন বহিরাগতরা এসে চিনতে না
বীরভূমের মতোই পূর্ব বর্ধমানের (east burdwan) সবকটি পুরসভাতেই (Municipal Election) তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়। তারই মধ্যে কাটোয়ার (Katwa) কাটা বিঁধেছে ঘাসফুলে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভোটের দিন বহিরাগতরা এসে চিনতে না পেরে তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতাকেই ব্যাপক মারধর করেন। আর ফর বেরনোর পরে দলের একাংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী।

পূর্ব বর্ধমানের ছয় পুরসভাতেই নিরঙ্কুশ জয় তৃণমূলের
বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, দাঁইহাট, মেমারি ও গুসকরা পুরসভায় নিরঙ্কুশ জয় তৃণমূলের। বর্ধমান পুরসভার ৩৫ টি আসনেই জয়ী তৃণমূল। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান পুরসভার যেসব ওয়ার্ডে বিজেপি ভাল ফল করেছিল সেই সব-সহ সবকটি ওয়ার্ডেই জয়ী ঘাসফুল শিবির। একই ভাবে গুসকরা পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ড এবং দাঁইহাটের ১৪ টি ওয়ার্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য তৃণমূলের। একসয়মের হরেকৃষ্ণ কোঙার-বিনয় কোঙারদের গড় বলে পরিচিত মেমারিতে সিপিএম তথা বামেরা খাতা থুলতে না পারলেও সেখানে এবারে কংগ্রেস খাতা খুলতে পেরেছে। এই পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল ১৫ টি এবং কংগ্রেস একটি ওয়ার্ড দখল করতে পেরেছে। তবে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে বামেরা মেমারিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে কালনা পুরসভার ১৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭ টি পেয়েছে তৃণমূল আর ১ টি মাত্র ওয়ার্ড, ২ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন সিপিএম-এর শর্মিষ্ঠা নাগ সাহা।

কাটোয়ায় সব থেকে বেশি আসনে হার তৃণমূলের
পূর্ব বর্ধমানের ষষ্ঠ যে পুরসভায় তৃণমূল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে, তা হল কাটোয়া। যা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত। এই পুরসভার ২০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫ টি ওয়ার্ডে জয়ী তৃণমূল। ৪ টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস এবং ১ টি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। কাটোয়ার যে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে নিয়ে সব থেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তিনি হলেন অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী হিসেবেও পরিচিত। অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় কাটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। বুধবার ফল বেরনোর পরে দেখা যায়, তিনি কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ১১০ ভোটে হেরে গিয়েছেন।

তৃণমূলে কাটোয়ার কাঁটা
পরাজয়ের জন্য নিজের দলের লোকজনকেই দায়ী করেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দলের চক্রান্তের জন্যই হেরেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, তৎকাল তৃণমূল কর্মীরা চক্রান্ত করে তাঁকে হারিয়েছে। এব্যাপারে বিস্তারিত তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়ে জঘন্য রাজনীতি করেছে।

ভোটের দিনে কাটোয়া নিয়ে শোরগোল
২৭ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে কাটোয়া নিয়ে শোরগোল ছিল। কেননা ওই দিন বহিরাগতরা স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই নেতাকে না চিনতে পেরেই মারধর করা হয়। তবে বুধবার হারের পরে অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিয়েছেন জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, যে প্রার্থী তাঁর নিজের দলের জেলা সভাপতিকে 'হরিদাস পাল', চোরের সর্দার বলে তাচ্ছিল করেন তাঁর এমন পরিণতি কথা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন কটোয়াবাসী। তাঁরাই জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী।












Click it and Unblock the Notifications