আদিবাসী মন্ত্রে পুজো হয়, কুলটির এই মন্দিরে বাঁধা থাকেন কালী মূর্তি
দুর্গাপুজো কেটে গিয়েছে এবার আলোর উৎসব দীপাবলির জন্য অপেক্ষা। কালী প্রতিমা তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। বাংলার বিভিন্ন অংশের কালী প্রতিমাকে নিয়েও একাধিক পুরনো ঘটনা, ঐতিহ্য রয়েছে। তেমনই একটি পুজোর সন্ধান কুলটির সিংড়ায় বাবার আশ্রমে।
অন্য রকম কালীপুজো দেখতে চাইলে পৌঁছে যেতে হবে এই জায়গায়। যেখানে গেলে কালী পুজো দেখার পাশাপাশি অন্যরকম অনুভূতি হবে। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে সাজানো একটা গোটা এলাকা। সেখানে নানা দেব দেবীর মন্দির রয়েছে। সেখানে অন্য সংস্কৃতিতে পুজোর প্রচলন রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

এখানে দেবী কালীর সঙ্গে রামায়ণের যোগ রয়েছে। মূর্তি দেখেও অন্য রকম অনুভূতি হবে। অহিরাবন দ্বারা পাতালে পুজিত দেবী কালীর আরাধনা করা হয় এখানে। দেবী কালীর মূর্তিও আর পাঁচ জায়গায় মূর্তির মতো নয়। এখানে মূর্তি কৃষ্ণবর্ণের। টকটকে লাল জিভ মুখের বাইরে। গলায় ঝুলছে মুণ্ডমালা। দেবীর পায়ের নীচেই শুয়ে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।
তবে এখানেই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। কারণ দেবীর দুটি পা-ই মোটা লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা। প্রতিদিনই এই শিকল দিয়ে দেবী বাঁধা থাকেন। এরও পুরনো কারণ আছে। মা বিশ্বভ্রহ্মাণ্ডে ঘুরে বেড়ান। দেবীকে কাছে রাখার জন্যই পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়। এই কথা জানা গিয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে এভাবেই দেবী মূর্তির পুজো করা হচ্ছে।
আদিবাসী মন্ত্রে পুজো হয় এখানে। সংস্কৃত মন্ত্র প্রচলিত নয় এখানে। আদিবাসী মন্ত্রেই দেবী এখানে পুজিত হন। এই সবকিছু দেখতে হলে পৌঁছাতে হবে সিংড়ায় বাবার আশ্রমে। কুলটির নিয়ামতপুরে রয়েছে সিংড়ায় বাবার আশ্রম। যেখানে আদিবাসী বিভিন্ন দেবদেবীর পাশাপাশি হিন্দু দেব দেবীদের পুজো হয়। যার মধ্যে দুর্গাপুজো এবং কালীপুজো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কেবল পুজোর দিনে নয়, বছরের অন্যান্য সময়ও মন্দির ও মূর্তি দর্শন করতে যাওয়া যায়৷ আশ্রমে যাওয়া, ঘুরে দেখায় কোনও বাধা নেই৷ এই আশ্রম থেকে পাতাল কালীর দর্শন করাই যায়।












Click it and Unblock the Notifications