লটারিতে জিতেছেন এক কোটি, টিকিট নিয়ে সটান থানায় দিনমজুর সিরাজুল
উপরওয়ালা যব দেতা হ্যাঁয়, ছপ্পর ফারকে দেতা হ্যাঁয়। কাঁকসার সিরাজুল খান যে কী করবেন, ভেবেই পাচ্ছেন না। আনন্দ হচ্ছে। কখনও ভয় হচ্ছে। এত টাকা কোথায় রাখবেন? মনের কোণে আশঙ্কার মেঘও রয়েছে। টাকার অঙ্ক তো কম নয়। এক কোটি টাকা।
দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। সংসারে কখনও নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ছয়জনের সংসারে সিরাজুল রোজগেরে। দিনমজুরের কাজ করে কী আর কপাল ফিরবে? সেই ভাবনা থাকে তার। কপাল ফেরাতে মাঝেমধ্যে লটারির টিকিটও কাটেন তিনি। যদি কিছু বেঁধেছেদে যায়।

পোড়া কপালে কী আর প্রথম পুরষ্কার বাঁধবে? তবু ঘর পোড়া গোরুও তো আশা করে। হয়তো সেই ভেবেই লটারির টিকিট কিনে ফেলেছিলেন। আর ভাগ্যের চাকা যেন ভোঁ করে ঘুরে গিয়েছে। ৩০ টাকার লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি কাঁকসার সিলামপুরের বাসিন্দা সিরাজুল খান।
৪৭ বছর বয়সী সিরাজুল খান। রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোন। পানাগড়ের দিন মজুরের কাজে যোগ দেন। হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়ি ফেরা সন্ধ্যায়। তিনি বাড়ি ফেরার পরে মাঝেমধ্যেই লটারির টিকিট কাটতেন। শুক্রবার ঘুরে গেল ভাগ্যের চাকা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে পানাগড়ের রেলপাড়ে একটি দোকান থেকে ৫ সেমের একটি লটারি কাটেন। খরচ হয় ৩০ টাকা। বাড়ি ঢোকার মুখে গ্রামের মোড়ে নির্ধারিত সময়ে লটারির টিকিটের রেজাল্ট মেলানোর জন্য দাঁড়ান। নিজের চোখকেই তো বিশ্বাস করাতে পারছেন না তিনি।
তার কেনা লটারির নম্বরে পুরষ্কার এসেছে। তাও আবার প্রথম পুরস্কার। এক কোটি টাকার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। দেখা যায়, ওই ৫ সেমের লটারির একটি টিকিটে প্রথম পুরস্কার বাবদ এক কোটি টাকার পুরস্কার উঠেছে। কোটি টাকার পুরস্কার পাওয়ায় কিছুটা হতভম্ভ হয়ে যান।
এরপরেই সটান কাঁকসা থানায় হাজির হন তিনি। পুলিশের কাছে লটারির টিকিটে পুরস্কার জেতার কথা বলেন। সিরাজুল জানিয়েছেন, বাড়িতে মা বাবা স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে আছে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই টাকার কিছু তাদের নামে ব্যাঙ্কে রাখা হবে।
বাড়ির অবস্থা খারাপ। সেই বসতবাড়ি মেরামত করা হবে। আর বাকি টাকায় নতুন কোনও ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications