Darjeeling: যেতে হবে না সিকিম, এবার পর্যটকদের জন্য বড় চমক দার্জিলিংয়ে
এবার পুজোয় দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ স্কাইওয়াক। এতোদিন পাহাড়ে স্কাইওয়াক দেখতে সিকিমের পেলিংয়ে ছুটতেন পর্যটকরা। এবার আর সেখানে যেতে হবে না দার্জিলিংয়েই তৈরি হয়ে গিয়েছে স্কাইওয়াক।
দার্জিলিংয়ে যাওয়ার পথে ছোট রঙ্গিত নদীর উপরে তৈরি হয়েছে এই স্কাইওয়াক। কাঠ আর কাচের সংমিশ্রণে ব্রিটিশ আমলের সেতুটিকে নুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ২০০ ফুট উচ্চতায় ১৬০ ফুট এই ঝুলন্ত স্কাইওয়াক ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে বলে মনে করছেন সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

ব্রিটিশ আমলে ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছিল দার্জিলিং ও বিজনবাড়ি পলবাজারের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির জন্য। যাতে গ্রামবাসীরা সহজেই বিজনবাড়ি থেকে পল বাজার যাতায়াত করতে পারেন। জিনিস পত্র আনা নেওয়া করতে পারেন তার জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ আমোলের সেই ব্রিজ বয়সের কারণে ভগ্ন প্রায় হয়ে গিয়েছিল।
সেকারণে হামরো পার্টির প্রধান অজয় এডওয়ার্ড উদ্যোগী হয়েছিলেন নতুন একটি ব্রিজ তৈরির জন্য। সিংতাম, পালবাজার, বিজনবাড়ি সহ প্রায় ২০ গ্রামকে এই সেতুটি যুক্ত করে। এই কুড়িটি গ্রামের বাসিন্দারা যৌথ উদ্যোগে টাকা দিয়ে এবং শ্রম দিয়ে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করেছেন।
১৩০ ফুট দীর্ঘ পাকা সেতুটি নদীর উপরে তৈরি হয়ে যাওয়ার পর পুরনো ব্রিটিশ আমলের সেতুটি নতুন করে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। দার্জিলিংয়ে যেহেতু পর্যটকদের আনাগোনা বেশি তাই পর্যটন শিল্পকে ভাল করে তৈরি করতে এই পুরনো ব্রিটিশ আমলের সেতুটিতে কাচের স্কাইওয়াকে পরিণত করেন তাঁরা।
৩০ ফুটের কাচের ব্লকের সঙ্গে মাঝে মাঝে কাঠ বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে সেই স্কাইওয়াক। ১২ মিলিমিটার পুরু কাচের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে। রোদ-ঝড়-জল-ঠান্ডা সব কিছু মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা রয়েছে এই কাচের ব্লক গুলি। তার উপর লাফালেও কাচ ভেঙে যাবে না বলে জানিয়েছেন অজয় এডওয়ার্ড। অর্থাৎ পর্যটকদের সুরক্ষার দিকটিও ভাল করে দেখা হয়েছে। জানা গিয়েছে একসঙ্গে ২০ জন সেই ব্রিজে চড়তে পারবেন এমন একটি সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
স্কাইওয়াক এবং কংক্রিটের ব্রিজ তৈরির জন্য অজয় এডওয়ার্ড একাই ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। স্কাইওয়াকের জায়গাটিকে পর্যটকদের ঘোরার মতো করে গড়ে তুলতে কফি শপে তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। ৪৫ ফুট উঁচু পিলার দিয়ে ৬০০ স্কোয়ার ফুটের একটি কফি শপও তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কফি হাউস ছাড়াও জিপ লাইন , রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো অ্যাক্টিভিটিও করার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। দার্জিলিংয়ে রক গার্ডেন এবং গঙ্গা মাইয়ার খুব কাছেই রয়েছে জায়গাটি। সেকারণে পর্যটকদের আলাদা করে কোনও রুটে যেতে হবে না। অগস্ট মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে স্কাইওয়াক তৈরির কাজ। কাজেই পুজোর ছুটিতে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে এসে পর্যটকরা নতুন কিছু পাবেন।












Click it and Unblock the Notifications